ফাঁস’ নয় তথ্য ‘হ্যাক’ হয়েছে, দাবি মোস্যাক ফনসেকার

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৪:১১
গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক কোটি পনের লাখ গোপন নথি ‘ফাঁস’ নয় বাইরে থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ল’ ফার্ম মোস্যাক ফনসেকা। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পানামাভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার ও প্রতিষ্ঠাতা র‌্যামন ফনসেকা বলেন, আমাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বৈধ। আমরা কোনো গোপন কাজ করি না। এটা ফাঁস নয়, হ্যাক।
 
এ ঘটনায় এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ৬৩ বছর বয়সী র‌্যামন। আমরা এরই মধ্যে এ ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি, সরকারি একটি সংস্থাও এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।  কোম্পানির যেসব ইমেইল ও তথ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস ও অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোকে ‘প্রসঙ্গের বাইরে’ ও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি তার। আমাদের মতবাদ আছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী চলি।
 
প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের কাছে থাকা কোনো তথ্য নষ্ট করা হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানটি কাউকে কর ফাঁকি বা মুদ্রা পাচারে সহায়তা করেনি বলেও দাবি ল’ ফার্মটির এ শীর্ষ কর্মকর্তার। চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমে আসা মোস্যাক ফনসেকার এসব নথি কেবল রাজনীতিবিদ নয়, ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, বিশ্বখ্যাত ফুটবলার, বলিউড তারকাসহ অনেকেরই গোমর ফাঁস হয়ে গেছে। ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন- সে তথ্য বেরিয়ে এসেছে এসব নথিতে।
 
প্রতিষ্ঠানটির মক্কেলদের মধ্যে রয়েছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক, লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। নথিগুলোতে বিলিয়ন ডলার পাচারের একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নাম এসেছে। সৌদি বাদশাহ সালমান, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট খলিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বাবা প্রয়াত ইয়ান ক্যামেরন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ছেলে মোহাম্মদ নাজিব, সাবেক চীনা প্রধানমন্ত্রী লি পেংয়ের মেয়ে
 
লি শিয়াওলিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের তিন ছেলেমেয়ে- মরিয়ম সফদার, হাসান নওয়াজ শরিফ ও হুসাইন নওয়াজ শরিফও রয়েছেন পানামার ওই ল’ ফার্মের মক্কেলদের মধ্যে। এমনকি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাইও মোস্যাক ফনসেকার সেবা নিয়েছেন। 
 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে এ ঘটনায় নাম আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন। এ ঘটনাকে ‘ডাইনি-নিধন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ‘ফাঁস’ থেকে সুবিধা নিতে পারবে বলেও আশঙ্কা করছেন র‌্যামন।
 
“অফশোর কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় খ্যাতনামা মোস্যাক ফনসেকা কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। একমাত্র যে অপরাধটি চিহ্নিত করা গেছে তা হলো ‘হ্যাক’। কেউ এটার কথা বলছে না, অথচ এটাই সত্যি। পানামার কোম্পানি হেডকোয়ার্টারে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় র‌্যামনের দুই পাশে দুইজন গণমাধ্যম উপদেষ্টা ছিলেন।
 
মোস্যাক ফনসেকার মোট ৫০০ কর্মীবাহিনী আছে জানিয়ে র‌্যামন বলেন এর মধ্যে ৩০০ জনই পানামাতে কাজ করেন। অবশ্য পানামার বাইরে কাজ করা কর্মী, মোস্যাক ফনসেকার শাখা ও তার কাঠামো সম্বন্ধে জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। মোস্যাক ফনসেকার নথি বের হওয়ার পরপরই ফ্রান্স সরকার পানামার সেন্ট্রাল আমেরিকান নেশন ব্যাংককে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
 
প্রতিবাদে পানামাও ফ্রান্সের ব্যাংকগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বলে পানামার প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন। আলভারো আলেমান নামে ওই মুখপাত্র ফ্রান্সকে অনুসরণ করা অন্য দেশের সঙ্গেও পানামা একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। এটা একটা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়; এখানে যা হচ্ছে তার শেষেই দেখবেন সূর্য উঠবে। রয়টার্স
 
তিনি দৃঢকণ্ঠে বলেন, “আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, এ ঘটনায় আমরা (মোস্যাক ফনসেকা) কোনোভাবেই দোষী সাব্যস্ত হব না।”