খুলনার দুই উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে আট গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৬, ১৯:৫৭
 
খুলনার ডুমুরিয়া ও কয়রা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আটটি গ্রাম ও দুটি বিল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ছোট-বড় ২৫টি চিংড়ি ঘের। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া দুই উপজেলার শত শত মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
 
এলাকাবাসী জানায়, ডুমুরিয়া উপজেলার ২৯ নম্বর পোল্ডারে শরাফপুর ইউনিয়নের চাঁদগড় এলাকায় বৃহস্পতিবার ভদ্রা নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে প্রায় ৪০০ মিটার জুঁড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে  ৬টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই এলাকার ক্ষেতের ফসল, সব্জি ক্ষেত, ফলজ ও বনজ সম্পদের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য ঘের। এছাড়া ওই এলাকার চাঁদগড়, বৃত্তিবিড়ালা, বারোয়াড়িয়া, শম্ভুনগর, আকড়া ও সুন্দরমহলসহ ৬টি গ্রামের মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
 
ক্ষতিগ্রস্ত চাঁদগড় গ্রামের বাসিন্দা হেমায়েত রশিদ খান, জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, আব্দুস ছালাম মোড়ল ও  আব্দুল কালাম শেখ জানান, এ এলাকার মানুষ এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু বেড়িবাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পাউবো’র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কোন সাহায্য পায়নি।
 
শরাফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত  মানুষদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা উপজেলা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা এখনও পাওয়া যায়নি।
 
তিনি জানান, চাঁদগড় ভাঙন এলাকায় গত ৪৫ বছরে ১৯ বার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দু’টি মসজিদ, দু’টি ঈদগাহ, একটি মাদ্রাসা, ৫টি স্লুইস গেটসহ হাজার হাজার কাঁচা-পাঁকা ঘরবাড়ি ও অসংখ্যা গাছ পালা। আর গত ৪৫ বছরে এ এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার কিন্তু স্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষা হচ্ছে না।
 
ডুমুরিয়া উপজেলার পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দেবপ্রতিম হালদার জানান, তিনি শুনেছেন চাঁদগড় এলাকা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অর্থ সংকটের কারণে চাঁদগড় ভাঙন রক্ষা হচ্ছে না।
 
ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে বেশ কয়েটি প্রাম পানিতে ডুবে গেছে। তবে ওই এলাকায় ভাঙন রোধ করতে সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজন। তা না হলে এলাকাটি টিকানো সম্ভব হবে না।
 
অপরদিকে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের হরিহরপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার এলাকা ভেঙ্গে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ  করেছে। এতে উক্ত ইউনিয়নের হরিহরপুর ও গাববুনিয়া গ্রাামের পাঁচ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৫টির মত ছোট-বড় চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ভাঙন দেখা দেয়।
 
গ্রামবাসী জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ভাটার সময় বাঁধের ওই স্থানটিতে ধস নামে। গত দু’দিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও চিংড়ি ঘের মালিকগণ নিজ উদ্যোগে বাঁধটি রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেও বাঁধ রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।
 
পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) খায়রুল ইসলাম জানান, বাঁধের যে অংশ ভেঙ্গে গেছে সেখানে আগে থেকেই দুর্বল ছিল। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ ঘাটতির কারণে সেখানে কাজ করা সম্ভব হয়নি।
 
কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসর মো. বদিউজ্জামান বলেন, ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে সেখানে কাজ করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য পাশ্ববর্তী সাইক্লোন শেল্টার খুলে দেয়া হয়েছে।