পঞ্চগড়ে মালেকা আক্তার মালা (২১) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী ভ্যান চালক দুলাল (৩০) ও শাশুড়ি হাওয়া বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুর ১২ টায় জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের গোফাপাড়া এলাকায় তার স্বামীর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মালেকাকে প্রথমে মারপিট ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার কফিল উদ্দীন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মহসে উল গণি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অভিযুক্ত দুলাল ও তার মা হাওয়া বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে সদর উপজেলার পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের গোফাপাড়া গ্রামের হুসেন আলীর ছেলে ভ্যান চালক দুলালের সঙ্গে একই উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের অধিকারীপাড়া এলাকার ওমর আলীর মেয়ে মালেকা আক্তার মালার বিয়ে হয়। শুক্রবার রাতে ওই স্বামী ও শাশুড়ি ওই গৃহবধূকে মারপিট করে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নেয়ার পথে তার মৃত্য হয়। পরে মৃতদেহটি তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায়। রাত থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে দুলালের পরিবারের লোকজন।
মালার পরিবারের লোকজন রাতেই পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশকে জানায়। রাতভর অপেক্ষার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে খবর পাওয়ার ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
