ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ইটভাটায় নেয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে দিনাজপুরের কৃষি সেক্টর। সরকারি নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে ফসলি জমি ধ্বংস করে এবং বনাঞ্চলের কাছে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। জেলায় ছোটবড় ১৬৩টি ইটভাটা গড়ে ওঠেছে চলতি মৌসুমে।
পরিবেশ ও কৃষিবিদদের ভাষ্য মতে, জমির উপরিভাগের মাটি কাটার কারণে জমির উপরিভাগের ৪ থেকে ৬ ইঞ্চির মধ্যে থাকা জমির খাদ্যকণা ও জৈব উপাদনে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু ওই মাটিগুলো কেটে নেয়ায় সেগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে উঁচু জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এক সময় ওই জমিগুলোতে চাষাবাদ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
স্থানীয় কয়েকজন জমির মালিক বলেন, স্থানীয়ভাবে ১৫ থেকে ১৬হাজার টাকা বিঘা হিসেবে জমির উপরিভাগের মাটি স্থানীয় ট্রাক্টর মালিকরা কিনে নিচ্ছেন। পরে ওই মাটি ট্রলি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০টাকা দরে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। তবে উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমলেও দুই চার বছরের মধ্যে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে উর্বরাশক্তি ফিরিয়ে আনা হয়।
বেসরকারি হিসেব মতে, এক মৌসুমে একটি ইটভাটায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ ইট তৈরি হয়ে থাকে। এতে করে ছয় ইঞ্চি গভীরতায় মাটি কাটলে একটি ইটভাটার জন্য মাটির প্রয়োজন হয় পাঁচ থেকে সাত একর জমির মাটি। সে অনুযায়ী জেলার ১৬৩টি ইটভাটার জন্য মাটির প্রয়োজন হচ্ছে ৮১৫ একর থেকে হাজার একর জমির মাটি। এতে করে হুমকিতে পড়ছে জেলার কৃষি সেক্টর। বিষয়টির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা।
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃক্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শাহাদাৎ হোসেন খান বলেন, ‘উপরিভাগের মাটিতে যে পরিমাণ জৈব পদার্থ থাকে, নিচেরভাগে তা থাকে না। উপরিভাগের মাটি কেটে ফেললে আগামী ২০বছরেও সেই জমির জৈব পদার্থের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে ফসলি জমি উৎপাদন অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে বনাঞ্চল এলাকার আশপাশে ইটভাটা গড়ে ওঠায় বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র ধ্বংসসহ পরিবেশও হুমকিতে পড়ছে। তবে ফসলি জমির রক্ষা করতে হলে কৃষকদেরকে জমির উর্বরাশক্তি ও উৎপাদন বিষয়ে সচেতন করা জরুরি।’
