ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে ২৫ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৬, ০২:৪৪
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের হাসপাতাল সংলগ্ন মঠবাড়িয়া-মাছুয়া খালের ওপর ৪৫ মিটার পাকা সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে নির্মাণ হয়নি পাকা সেতু। কাঠ ও বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে চার ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের  কয়েক  লাখ মানুষ। অপ্রশস্ত এ সেতু দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সকল প্রকার যানবাহন পারাপারও বন্ধ রয়েছে। চার বছর আগে পাকা সেতুটি একটি বালু বোঝাই বার্জের ধাক্কায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পর মঠবাড়িয়া, বেতমোড়, আমড়াগাছিয়া ও মাছুয়া ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সকল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার জরুরি রোগী সদর হাসপাতালে আসতে দুর্ভোগ পোহান। সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এলাকাবাসী প্রথমে খেয়া নৌকায় পারাপার হন।
 
স্থানীয়রা জানান, চার বছর আগে এক রাতে বলেশ্বর নদ থেকে বালু বোঝাই এমভি শামীম নামে একটি বার্জ মাছুয়া খাল দিয়ে মঠবাড়িয়ার দিকে আসছিল। এ সময় বার্জটি মঠবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার হাসপাতাল সংলগ্ন মাছুয়া খালের ওই সেতুিট পার হওয়ার সময় ধাক্কা লাগে। এতে সেতুটির মাঝখানে ২৫ মিটার ভেঙে পড়ে যায়। সেতুটির বিধ্বস্ত অংশ বার্জের ওপর পড়ে বার্জটি খালের চরে আটকে যায়। পরে সেতুর অভাবে জনসাধারণের খেয়া নৌকায় চরম দুর্ভোগে পারাপার হন। কয়েক মাস পর পৌর প্রশাসন কাঠ ও বাঁশের অপ্রশস্ত সাঁকো নির্মাণ করে। তবে এ সাঁকোর ওপর দিয়ে যানবাহন পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মিত সাঁকোটি এখন নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
 

মঠবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুস ছালেক জানান, মঠবাড়িযা পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় ৪৫ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুটি ১৪ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে বর্তমানে জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উপকূলীয় শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্রিজটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।