মানবদেহে ৬১ ভাগ সংক্রামক রোগ প্রাণী থেকে ছড়ায়

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৬, ১০:৪৬
 
প্রতি ১০টি রোগের মধ্যে ৬টি রোগ বিভিন্ন প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। দেখা গেছে, সংক্রামক রোগসমূহের মধ্যে ৬১ শতাংশ রোগ প্রাণী থেকে মানুষের দেহে ছড়ায়। মানুষের দেহে উদীয়মান রোগসমূহের মধ্যে ৭০ শতাংশ রোগ আসছে প্রাণীর দেহ থেকে। গতকাল শনিবার রাজধানীর নেসেন্ট গার্ডেনিয়ার মিলনায়তনে রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত বাংলাদেশে জুওনোটিক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক কর্মশালায় বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য জানান।
 
তবে মজার বিষয় হলো, প্রাণী থেকে মানুষের দেহে রোগ ছড়াতে পারে এমনটি বিশ্বাস করেন না দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ। ৬৯ শতাংশ মানুষের কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ৩৯ শতাংশ মানুষ কাঁচা দুধ খেতে অস্বস্তিবোধ করে না বরং ১৪ শতাংশ নিয়মিত কাঁচা দুধ খায়। ৪৫ শতাংশ মানুষ অর্ধসিদ্ধ ডিম খায়। কাঁচা দুধ বা ডিম জুওনোটিক রোগ ছড়াতে ভূমিকা রাখে। ৫৫ শতাংশ মানুষ কাঁচা খেজুরের রস খায়, ৩০ শতাংশ মানুষ ফল ধুয়ে খায় না, ৬০ শতাংশ মানুষ প্রাণী ছুঁয়ে হাত ধোয় না। ৭৭ শতাংশ মানুষ অসুস্থ প্রাণী অথবা এসব প্রণীর দুধ বা ডিম খায়। ফলে জুওনোটিক রোগ খুব সহজে প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। সচেতনতার অভাবে এসব রোগ পৃথিবীব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এমন তথ্য উপস্থাপন করেন রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ড. রাজু আহম্মেদ।
 
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ২০টি এলাকা জুওনোটিক রোগের ঝুঁকি প্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে যেসব জুওনোটিক সংক্রমণ রয়েছে তার মধ্যে তড়কা, বার্ড ফ্লু, জলাতঙ্ক, নিপাহ্, ধনুষ্টঙ্কার উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক সময় ইঁদুরবাহিত রোগ প্লেগ পৃথিবী জুড়ে মহামারি আকারে দেখা দিত। তবে বর্তমানে ইবোলা, সোয়াইন ফ্লু, মার্স করোনা ভাইরাস, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু)-এসব জুওনোটিক রোগ বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। জুওনোটিক রোগের অন্যতম নিপাহ্, যা বাদুড়ের মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩১টি জেলায় নিপাহ্ ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছে। বাংলাদেশে জুওনোটিক রোগে সংক্রমিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে মেহেরপুরকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা যায়, মেহেরপুর অঞ্চলে আক্রান্ত মানুষের ৮০ শতাংশই তড়কা রোগে আক্রান্ত। গবাদিপশু ছাগল থেকে তড়কা রোগ মানুষের মধ্যে বেশি ছড়ায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছাগলে কম মাত্রায় টিকা দেয়ার কারণে তাদের মধ্যে অনাক্রম্যতা গড়ে না ওঠায় বেশি আক্রান্ত হয়। এছাড়া ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা, সিরাজগঞ্জে গবাদি পশু-পাখি সংক্রমিত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্য। এসব অঞ্চলের বেশিরভাগ তড়কা রোগে সংক্রমিত হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, জুওনোটিক রোগের মধ্যে ‘ইবোলা’ ভাইরাসকে মানুষ তুচ্ছ রোগ হিসেবে মনে করে। কিন্তু এই ভাইরাস বর্তমানে আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। ইবোলা ৭০ এর দশকে শনাক্ত করা হলেও বর্তমানে সচেতনতার অভাবে মহামারি রূপ ধারণ করেছে।
 
রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন ফুড এন্ড এগ্রিকালচারাল অরগানাইজেশন(এফএও) এর ওয়ান হেলথ বিভাগের সমন্বয়কারী প্রফেসর নীতিশ দেবনাথ, আইইডিসিআর এর পরিচালক প্রফেসর মাহমুদুর রহমান, ড. এইচ বি এম গোলাম মাহমুদ প্রমুখ।