কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পানি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে খালিয়াজুরীর চুনাই বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৫শ একর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলায় ফসল রক্ষার ঝুকিপূর্ন অন্যান্য বাধঁগুলো শক্ত ভাবে দ্রুত মেরামত না করা হলে আরো প্রায় ৪০ হাজার একর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বাধঁ রক্ষার জন্য কয়েক দিন ধরে খালিয়াজুরীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকাবসী সমবেত হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ক'দিনের ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত পানি চাপে শনিবার রাতে খালিয়াজুরী সদরের চুনাই বাধঁ ভেঙ্গেঁ চুনাই হাওরের প্রায় ৫শ একর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি প্রবাহের বাড়তি আরো চাপ থাকলে ও উপজেলার ঝুকিপূর্নঁ বাধঁগুলো ৩/৪ দিনের মধ্যে মেরামত না করা হলে খালিয়াজুরীর প্রায় ৫০ হাজার একর জমির মাঝে ৪০ হাজার একর জমির ফসলই পানিতে তলিয়ে যাবে।
খালিয়াজুরীর ঝুকিপূর্ন ও উল্লেখযোগ্য ফসল রক্ষা বাধঁসমূহের মধ্যে রয়েছে ঝালখালির বাধঁ, কীর্তনখলা বাধঁ, পাইয়া বাধঁ, আশালিয়াকুড়ির বাধঁ, চতিয়া বাধঁ, মায়ারচর বাধঁ, গঙ্গাঁবদর বাধঁ, মালিহাতা বাঁধ, চুনাই বাধঁ, নামা চুনাই বাধঁ, গুরস্তানের নামা বাধঁ ও বয়রা বাধঁ। ওই সমস্ত বাধেঁর কয়েকটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মাটি ভরাটের মাধ্যমে সংস্কার প্রকল্প কাজ হাতে নিলেও কয়েকটি বাধঁ তাদের প্রকল্পের আওতায় নেননি।
খালিয়াজুরীর বানোয়ারী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আলী ইসহাক চৌধুরী জানান, এ উপজেলায় পাউবো’র কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। বিশেষ করে মেন্দিপুর ইউনিয়নের আশালিয়াকুড়ির বাধেঁ এ বছর বরাদ্দের চার ভাগের এক ভাগ কাজও তারা করেনি। তাই এ বাধঁটি যেকোন সময় ভেঙ্গে পার্শ্ববর্তী হাওরগুলোর সমস্ত ফসল তলিয়ে যেতে পারে। এলাকার একাধিক কৃষক জানান, পাউবো যদি এখানে বরাদ্দের শতভাগ কাজ করতো তাহলে হাজার হাজার এক ফসল আজ হুমকির মাঝে পড়ত না। নেত্রকোনা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার বলেন, খালিয়াজুরী উপজেলায় ৫০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাধঁ সংস্কার কাজের জন্য এবার বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। এসব বরাদ্দের সকল কাজ সঠিক ভাবেই এখন সমাপ্তির পথে।
এদিকে, অন্যান্য বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিকা) বরাদ্দের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাধ মেরামতের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বাধেঁ মাটি ভরাটের কাজ করা হলেও এবার তা করা হয়নি। ফলে এখানকার ফসল রক্ষায় কৃষকরা অধিকতর সমস্যায় পড়েছে। খালিয়াজুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা ওই সমস্ত কাজ করে থাকেন। বিলম্বে বরাদ্দ আসা, খালিয়াজুরীতে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচিন ও নির্বাচন পরবর্তী অস্থিরতার কারনে ওই বরাদ্দের কাজ করা সম্ভব হয়নি।
