বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করার অভিযোগে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর চন্দন কুমার দাস রিংকু ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রতনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে । এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।
রবিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শেরপুর পৌরশহরের উত্তর সাহাপাড়ায় অবস্থিত উত্তরবাহিনী মহাশশ্মান, থানা ও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে এ সব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানান, শেরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর চন্দন দাস রিংকু ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতনের নেতৃত্বে উত্তরবাহিনী মহাশ্মসানে নিচু এলাকা ভরাটের কাজ চলছিল। এ জন্য পাশের করতোয়া নদীতে শ্যালোমেশিন বসিয়ে তারা বেশ কয়েকদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। সেই বালু দিয়ে তারা মহাশশ্মানের নিচু এলাকা ভরাট করছিলেন। রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এরপর তিনি পুলিশকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত শ্যালোমেশিনসহ সব সরঞ্জামাদি খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন চন্দন দাস রিংকু ও রতন। পরে পুলিশ তাদের পিটিয়ে আটক করে থানায় আনে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন দুপুর দেড়টার দিকে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষুদ্ধ লোকজন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার, টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ২টি শ্যালোমিশনসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর রিংকুর সমর্থকরা তার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. এরফান জানান, ঘটনাটি মিমাংসার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম সরোয়ার জাহান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র আব্দুস সাত্তারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
