চুয়াডাঙ্গাকে প্রথম রাজধানীর স্বীকৃতির দাবিতে কর্মসূচি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৬, ২০:৫৫
চুয়াডাঙ্গাকে ‘প্রথম’ রাজধানীর স্বীকৃতির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় রবিবার দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
 
কর্মসূচির শুরুতে সকাল ৯টায় স্থানীয় শহীদ হাসান চত্বরে জাতীয়, মুকিযুদ্ধকালীন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে শহীদ হাসান চত্বরের স্বাধীনতা মঞ্চে চুয়াডাঙ্গাকে প্রথম রাজধানী হিসেবে রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতির দাবি সম্বলিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
প্রথম রাজধানী দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হাজী ওয়ালিউর রহমান মালিক টুল্লুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মঞ্জু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন। কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে স্থানীয় সরকারি কলেজ শহীদ মিনার চত্বরে মুক্ত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক জলসা অনুষ্ঠিত হয়।
 
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন দেশ বরেণ্য ও শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এইচ এম কামরুজ্জামান, খোন্দকার মুশতাক আহম্মেদ, তাজউদ্দীন আহম্মদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, অধ্যাপক ইউসুফ আলী ও ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামসহ আরো অনেকে। ওই বৈঠকে জাতীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ২টি সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়েছিল। সিদ্ধান্ত ২টি ছিল নিম্মরূপ- এক: বাংলাদেশ বিপ্লবী সরকার গঠন এবং দুই: ‘চুয়াডাঙ্গাকে প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করে নব-গঠিত বাংলাদেশ বিপ্লবী সরকার উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন নির্ধারণ হয় ১৪ এপিল তারিখ। সেদিনের ওই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দুটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এর ৮ দিন আগে অর্থাৎ, ২ এপ্রিল’ ৭১ ভোর চুয়াডাঙ্গায় চলছিল নব-গঠিত বিপ্লবী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যবর্গের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কার্যক্রম। ওই সময়ের নব-নির্মিত ও অব্যবহৃত চুয়াডাঙ্গার বর্তমান সদর হাসপাতাল ভবনটিকে অস্থায়ী রাজধানীর সচিবালয় নির্বাচন করা হয়েছিল। এ সব প্রস্তুতি পর্বের সবকিছুর সরেজমিন দেখভাল ও তত্ত্বাবধান করছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গণ কমান্ডার প্রধান উপদেষ্টা ডা. আসহাব-উল-হক। সঙ্গে ছিলেন একই রণাঙ্গন কমান্ডের চিফ কমান্ডার মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও ডেপুটি চিফ কমান্ডার ক্যাপ্টেন আজম চৌধুরী। আরো ছিলেন রণাঙ্গন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদ্বয় ব্যারিস্টার বাদল রশিদ এমএনএ ও অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী এমপিএ।
 
উল্লেখ্য, ১০ এপ্রিল ’৭১-এ অনুষ্ঠিত দেশের তৎকালীন শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকে চুয়াডাঙ্গাকে প্রথম অস্থায়ী রাজধানী নির্বাচনের মূলে ছিলেন দেশের তৎকালিন শীর্ষ নেতৃত্ব তাজউদ্দীন আহম্মেদ। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে চুয়াডাঙ্গাকে সদর দফতর করে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গন কমান্ড ও উপদেষ্টা পরিষদ কমান্ড গঠিত হয়েছিল। এর অব্যাহত পরেই নব-গঠিত ওই কমান্ডারের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও মেহেরপুরবাসীকে সাথে নিয়ে একাত্তরের ২৯ এপ্রিল দিনগত রাতে শুরু হয় শক্তিশালী পাক-বাহিনী পরিবেষ্টিত কুষ্টিয়া আক্রমন। রাতভর প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ৩০ এপ্রিল ভোরে পাক হানাদার বাহিনীমুক্ত হয় কুষ্টিয়া।
 
কুষ্টিয়া বিজয়ের খবরে ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ওই দিন বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌঁছেন তাজউদ্দীন আহম্মেদ। সন্ধ্যার পর তাজউদ্দীন আহম্মদ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম এমপিএ ও মহিউদ্দীনকে সঙ্গে নিয়ে মুক্ত বাংলাদেশের জীবননগরের চ্যাংখালী সীমান্ত চৌকী হয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করেন।