এবার শৌচাগার নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৬, ২২:১৯
গাইবান্ধা সদর উপজেলার মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণ কাজে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ ও স্কুলের বেঞ্চের পুরাতন ফ্রেমের রড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
 
গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী আরিফ বিল্লাহ জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শৌচাগার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় আট লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ঠিকাদার আব্দুল খালেক ওই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য এটির নির্মাণ কাজ চলছিল। নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ঢালাইয়ের কাজে দশ থেকে বার মি.লি. লোহার রড ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু রডের পরিবর্তে ঢালাই কাজে চিকন বাঁশ ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
 
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শৌচাগারের ছাদ ভাঙ্গার কাজ চলছে। দুপুর পর্যন্ত ছাদের অর্ধেক অংশ ভাঙ্গা হয়েছে। এর পাশেই ভাঙচুর করা শৌচাগারের একটি জানালা ও একটি দরজার উপরের অংশে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ বেড়িয়ে আসে।
 
মেঘডুমুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানায়, এ ধরণের কাজ দিনে করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার চিকন বাঁশ ব্যবহারের জন্য রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ করেন। রাতে কাজ করার কারণে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তাই ঘটনাটি রামচ›ন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানানো হয়। তাদের উপস্থিতিতে গত ৮ এপ্রিল শৌচাগারের ঢালাইকরা একটি জানালা ও একটি দরজার উপরের অংশ (লিনটন) ভাঙ্গা হলে চিকন বাঁশ পাওয়া যায়।
 
মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার আমার কাছ থেকে একটি শ্রেণিকক্ষ খুলে নিয়েছিলেন মিস্ত্রিদের থাকার জন্য। তারা ছুটির দিনে ও রাতে কাজ করেন বেশি। সেই সুযোগে তারা কক্ষের বেঞ্চ ভেঙ্গে পুরাতন লোহার ফ্রেমও ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করে।
 
এ সব বিষয়ে গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী রবিবার বিকেলে বলেন, ওই ঠিকাদার মেঘডুমুরসহ মোট আটটি বিদ্যালয়ের কাজ পেয়েছেন। কিন্তু চিকন বাঁশ ব্যবহারের কারণে তার আটটি বিদ্যালয়ের কাজই বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কমকর্তা সাইফুল ইসলামকে (নলকুপ মেকানিক) কারণদর্শাও নোটিশ দেয়া হয়। এই ঘটনায় রামচন্দ্রপুর  ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে আহবায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, দরজা ও জানালার ওপরের অংশে চিকন বাঁশ পাওয়া গেছে। তবে আর কোথাও চিকন বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেজন্য পুরো ছাদ ভেঙ্গে দেখতে সুপারিশ করা হয়েছে।
 
ঠিকাদার আব্দুল খালেক মুঠোফোনে জানান, তার অনুপস্থিতিতে মিস্ত্রিরা এই কাজ করেছে।