নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে চার বাংলাদেশি তরুণীকে চার দেশের ‘ছায়া’ রাষ্ট্রদূত করা হয়েছে। একদিনের জন্য চার তরুণীকে এই সুযোগ দেয়া হয়। রাজধানীর গুলশানে আমেরিকান ক্লাবে গতকাল রবিবার বাংলাদেশস্থ চার নারী রাষ্ট্রদূত— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্শা বার্নিকাট, ডেনমার্কের হানা ফুগল ইসকজায়ের, ব্রাজিলের ওয়ানজা কেমপোস দা নবরেগা এবং নেদারল্যান্ডসের লিওনি মার্গারেটা সুয়েলেনায়েরারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শ্যাডো অ্যামবাস্যাডর ইনশিয়েটিভ টু প্রমোট ইয়াং ওমেনস লিডারশিপ’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ছায়া’ রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
চার ‘ছায়া’ রাষ্ট্রদূত হলেন— ব্রাজিলের দূতাবাসের মেহজাবিন খান, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের জায়বা তাহিয়া, ডেনমার্ক দূতাবাসের তালবিয়া তানভীর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তাসলিম বিসরিয়া। এ সময় বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি মার্গারেটা সুয়েলেনায়েরা বলেন, নারীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। গত পয়লা বৈশাখে যৌন নিপীড়ন এবং কুমিল্লায় কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো দেশ যৌন নিপীড়ককে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দিতে পারে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, নারীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন বন্ধের জন্য যথাযথ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচারের পাশাপাশি এ বিষয়ে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। এ সময় চার দেশের রাষ্ট্রদূতের আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে রাজনীতি, উন্নয়ন, ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রদানের শিক্ষাগ্রহণ করে সেবামূলক কাজে অংশ নেয়ার বিষয় উঠে আসে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, শুধুমাত্র বাংলাদেশের তরুণীরাই ‘ছায়া’ রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হননি। আন্তর্জাতিকভাবে অনেকগুলো দেশের তরুণীকে ‘ছায়া’ রাষ্ট্রদূত করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। রাষ্ট্রদূতরা বলেন, জেন্ডায় সমতায় বাংলাদেশ অগ্রসর হয়েছে। ‘ছায়া’ রাষ্ট্রদূতরা বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে নারীর সমতা ও নির্যাতন বন্ধের বিষয়ে দ্রুত সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।
