রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর হামলা, মারপিট ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের (ইচিপ) বৈঠকের পর কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগদান করায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম বিপিএম, হাসপাতাল পরিচালক হাসপাতাল পরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য ডা. সৈয়দ মামুনুর রহমান মামুন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুর জেলা সম্পাদক ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরুন্নবী লাইজু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম, আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের (ইচিপ) সভাপতি মাহমুদুর হক রিফাত ও সাধারণ সম্পাদক বিজন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে মিলন ছাত্রাবাসের সামনে একদল ছিনতাইকারী ইন্টার্ন চিকিৎসক সুমন আলীকে মারপিট এবং গলায় ছুরিকাঘাত করে নগদ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। আহত অবস্থায় ডা. সুমনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ৩০ মার্চ একই স্থানে ছিনতাইয়ের শিকার হন ডা. হিরা মিঞা। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ঘড়ি ও নগদ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এছাড়া গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ওই এলাকায় আরো তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এসব ঘটনায় হাসপাতালে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় হাসপাতাল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
