নাম জোবায়দা ইসলাম। বয়স ৩৫ এর কোঠায়। এই নারী কখনও নিজেকে পরিচয় দেন মুন, কখনোবা মৌসুমী নামে। রাজধানীতে তার চলাফেরায় রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান হলেই আমন্ত্রিতের মতো ঢুকে পড়েন ভেতরে। বাকি অতিথিদের মতো তিনিও অবাধে বিচরণ করেন। তবে চোখ থাকে বিত্তবানদের স্ত্রী-মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগের দিকে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডই তার মূল টার্গেট।
প্রথম আলাপ-পরিচয়েই কিছুটা ঘনিষ্ঠ হওয়া তার মূলমন্ত্র। সঙ্গে ব্যাংকের কার্ড বা টাকা আছে কিংবা থাকতে পারে, এমন ধারণা হলেই সুযোগের অপেক্ষা। আর সুযোগ পেলেই ব্যাগ বা কার্ডটি নিয়ে সটকে পড়েন। এভাবেই রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতে চলে জোবায়দা ইসলামের চুরির অভিযান। মসজিদও বাদ যায় না তার হানা থেকে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্টের মায়ের মৃত্যুতে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয় গুলশান আজাদ মসজিদে। খবর পেয়েই সেখানে ঢুকে পড়েন জোবায়দা। সুযোগ বুঝে ইপিলিয়ন গ্রুপের পরিচালক কিশোর জাহানের ব্যাগ থেকে ক্রেডিট কার্ডটি নিয়ে দ্রুত মসজিদ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি।
ক্রেডিট কার্ডটি নিয়ে সোজা চলে যান পান্থপথের পারটেক্স ফার্নিচারে। আর বিপত্তি ঘটে সেখানেই। একটা আলমারি আর ওয়ারড্রোব কিনে যখন দাম পরিশোধ করতে ক্রেডিট কার্ডটি পাঞ্চ করা হলো, তখনই ৬৫ হাজার টাকার ক্রেডিট নোটিশ সংক্রান্ত একটি এসএমএস চলে যায় কার্ডের প্রকৃত মালিক কিশোর জাহানের মোবাইল ফোনে। তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে পারটেক্স গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানালে তারা জোবায়দাকে আটকে রেখে তেঁজগাও থানায় খবর দেয়। কার্ডটি যেহেতু গুলশান থেকে চুরি হয়েছে, তাই তাকে পরে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জোবায়দা ইসলাম একজন ছদ্মবেশী সুন্দরী চোর। তার কাজই হচ্ছে অভিজাত এলাকার অনুষ্ঠানে ঢুকে নারীদের ব্যাগ বা ব্যাগ থেকে কার্ড হাতিয়ে নেয়া। এর আগেও গুলশানের আমারি হোটেল থেকে এক বিদেশি নারীর ব্যাগ চুরি করেছিল সে। তখন এ নিয়ে একটি মামলাও হয়েছিল। সেই মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন জোবায়দা। এছাড়া বনানী থানাতেও এমন চুরির অভিযোগে মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
