গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলেও ভরসা পাচ্ছি না : তালেয়া রেহমান

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৫:০৯
 
সাংবাদিক পরিচয়ে ঘরে আসে তারা। এক সাথে বসে নাস্তাও করে। তারপর স্বামী শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা। সে কারণেই এখন কেউ গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলেও ভরসা পাচ্ছেন না শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান। শনিবার সকালে এই সাংবাদিককে ধরে নেওয়ার পর তালেয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'টিভির বদনাম হয়ে গেল, আর (বাসায়) আসতে দেব না।'
 
রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ওই বাড়ি থেকে শফিক রেহমানকে তুলে নিতে ডিবির তিন সদস্য বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন বলে জানান ডেমোক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া। স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা তিনি জানানোর পর প্রাথমিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে গ্রেফতারের বিষয়টা স্বীকার করেনি ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্মকমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। তার আধাঘণ্টা পর গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে পুলিশ।
 
তালেয়া বলেন, নিজেদের বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিন পুলিশ সদস্য শফিক রেহমানের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলেছিলেন। পয়েন্টমেন্ট ছাড়াই এত সকালে ‘সাংবাদিকদের’ বাসায় আসার খবর শুনে সন্দেহ হলেও এনিয়ে তখন কাউকে কিছু বলেননি তালেয়া। তিনি বলেন, 'বৈশাখী টিভির কথা বললেও তাদের হাতে ছোট একটি ক্যামেরা ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। অবাক হলাম, একটু সন্দেহও হয়েছিল।'
 
শফিক রেহমানের বাসায় দারোয়ান আব্দুল মতিন মোল্লা জানান, ভোর ৬টায় বাসার গেটে এসে তিনজন মানুষ নক করে নিজেদের বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দেন। দারোয়ান বলেন, 'এদেরকে বলি এখনও তো কেউ ঘুম থেকে উঠেনি, এরা বলে গেইট খোল। এরপর তাদের ভেতরে ঢুকিয়ে বসতে দিয়ে স্যারের বাসায় খবর পাঠাই।'
 
ইস্কাটনের বাড়ির কম্পাউন্ডে সামনের দোতলা বাড়িতে ডেমোক্রেসিওয়াচের কার্যালয়, সেখানেই তিন পুলিশ সদস্যকে বসিয়ে চা-নাশতা দেওয়া হয়। পেছনে তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় সপরিবারে থাকেন শফিক রেহমান। তালেয়া জানান, শফিক রেহমানের দেরি দেখে ওই তিনজন ভেতরের বাড়ির দিকে রওনা হয়। দারোয়ান মতিন মোল্লা বলেন, ওই তিনজন একটি কার্ড তার হাতে দিয়ে তা তিনতলায় শফিক রেহমানকে পৌঁছে দিতে বলেন।
 
'স্যার কার্ড দেখে তা ম্যাডামকে দিতে বলেন। আমি কার্ডটি নিয়ে নিচে নামতে নামতে দেখি স্যারও নেমে আসছেন। ওই সময় ওই তিনজনও উপরে উঠতে থাকে। তারা ‘আমরা ডিবির’ লোক বলে কার্ডটি আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্যারকে ধরে নিয়ে যায়।' বিডি নিউজ।