কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগার থেকে নয় ইয়েমেনি বন্দিকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।
ইয়েমেনের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে সৌদি আরব এই বন্দিদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। এই ন’জনকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কুখ্যাতি পাওয়া বন্দিশিবিরটিতে এখন রইলো ৮০ জন বন্দি। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর এই নয় বন্দিকে গ্রহণের ব্যাপারে সম্মত হয় সৌদি আরব।
সৌদিতে অনুষ্ঠিতব্য উপসাগরীয় আরব মিত্রদের শীর্ষ সম্মেলনে ওবামা যোগ দেওয়ার কয়েকদিন আগেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে তারিক বা ওদাহও রয়েছেন। ২০০৭ সালে অনশন শুরু করার পর থেকে তাকে প্রতিদিন জোর করে খাওয়ানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নয় বন্দির সবাইকেই সৌদি সরকার পরিচালিত পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তারা যেন পুনরায় সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এই কর্মসূচির লক্ষ্য তাই। আরো ২৬ জন বন্দিকে এখান থেকে আর কয়েক মাসের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা জানিয়েছেন, প্রতিবছর গুয়ানতানামো বে কারাগারের পেছনে ব্যয় হয় প্রায় ৪৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। আর এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। ২০০২ সালের ১১ জানুয়ারি গুয়ানতানামো কারাগারে প্রথম ২০জন বন্দি পাঠানো হয়। ধীরে ধীরে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৮০০ জনে উন্নীত হয়েছিল। কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিবিরে এই কারাগারটি স্থাপন করা হয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শত্রু শিবিরের যোদ্ধাদের আটক করে রাখা হত।
আটক বন্দিদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়নি কিংবা তাদের বিচার হয়নি। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়ার আগেই ওবামা গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অবশ্য রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস বন্দিদের এ ধরনের পুনর্বাসনের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের অন্ততপক্ষে ৩০ দিন আগে পেন্টাগনকে এইমর্মে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে যে, মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কোনো বন্দির মুক্তি কিংবা পুনর্বাসনের যেকোনো পদক্ষেপ আইনপ্রণেতারা প্রতিরোধ করে আসছেন। অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ হওয়ার কারণে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ বন্দিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশ গুয়ানতানামো বন্দিদের পুনর্বাসিত করেছে। রয়টার্স।
