পাল্টাপাল্টি শোডাউনে বাফুফেতে মনোনয়নপত্র জমা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:১৬
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী উত্তাপ। চূড়ান্ত উত্তাপ  ছড়াতে আরও দিন দুয়েক সময় লাগবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ২১ এপ্রিল প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে।
 
এর আগেই পাল্টাপাল্টি শোডাউনের মধ্য দিয়ে সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী কমিটির আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন কাজী মো. সালাহউদ্দিন ও মনজুর কাদেরের ভিন্ন দুই প্যানেলের প্রার্থীরা।
 
আগামী ৩০ এপ্রিল নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ছিল সোমবার । এদিন বিকেল ৩টার দিকে পূর্ণ প্যানেল নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাফুফের বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। নির্বাচন প্রসঙ্গে আপাতত কোনো কথাই বলবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন বাফুফে কর্তা কাজী সালাউদ্দিন। আগামী ২২ কিংবা ২৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ইশতেহারসহ যাবতীয় বিষয়ের ব্যাখ্যা দেবেন তিনি।
 
তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই নিজ কক্ষে চলে যান সালাউদ্দিন। এই প্যানেলের হয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন প্যানেলের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী। ২১ জনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সালাউদ্দিন প্যানেল ২২ সদস্যের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
 
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন একজনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। ২২ জনের ১৪ জনই সালাউদ্দিন মনোনীত, বাকি ৮ জন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের। ৮ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ৭ জন নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকবেন বলে জানিয়েছেন এই প্যানেলের জেলা ও বিভাগের সমন্বয়কারীর দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু। এই আটজনের মধ্যে আজমল আহমেদ তপনের বাদ পড়ার কথা সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনে দুই প্যানলের মধ্যে যেই পদে সবচেয়ে বেশি লড়াইয়ের সম্ভাবনা সেটা সিনিয়র সহ-সভাপতি। এই পদে সালাউদ্দিন প্যানেলের হেভিওয়েট প্রার্থী সালাম মুর্শেদী। তবে নিজে এবং প্যানেলের জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি।
 
আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘যদি আমরা নির্বাচিত হই একাডেমির কাজ বাকি আছে, এটা সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া স্কুল ফুটবল এবং জেলার ফুটবল উন্নয়নে আমরা কাজ করব।’
 
ক্ষমতাসীনদের বিরোধী প্যানেল বাঁচাও ফুটবল আন্দোলনের কর্ণধার মনজুর কাদের নিজে সভাপতি পদে লড়ছেন না। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়ে তিনিই বাঁচাও ফুটবল আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। সোমবার বেশ বড়সড় নির্বাচনী শোডাউন করেই মনোনয়নপত্র জমা দেন এই প্যানেলের কর্তাব্যক্তিরা। বিশাল বহর নিয়ে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা।
 
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মনজুর কাদের। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকবেন কিনা তিনি (কাদের) সেটা পরিষ্কার করে বলেননি। যেহেতু ২০ তারিখ পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রত্যাহারের সময় রয়েছে, সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আমি ছাড়াও দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুল ও লোকমান হোসেন ভূইয়া আছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন আমাদের তিনজনের যে কেউ একজন থাকবেন, বাকিরা প্রত্যাহার করে নিবেন।’
 
এক সময়কার সালাহউদ্দিনের সহযোগী ছিলেন মনজুর কাদের। এবার ভিন্ন প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কেন? জানতে চাইলে পরিষ্কারভাবেই কাদের বলেন, ‘দেশের ফুটবল বাঁচাতে, প্যানেলের চাপে বাধ্য হয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’
 
মোট ২১টি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও এখনো প্যানেল চূড়ান্ত করতে পারেনি কাদেরের বাঁচাও ফুটবল। সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সভাপতি পদে ঝামেলা না থাকলে সদস্য পদে হিসাব মেলাতে পারেনি। ১৫ সদস্যেও বিপরীতে ১৩ জনের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল পূর্ণ প্যানেল চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে আংশিক ইশতেহার ঘোষণার পাশাপাশি বাফুফের বর্তমান কমিটিকে এক হাত নিয়েছেন মনজুর কাদের। সালাউদ্দিনের দুই মেয়াদে অর্থাৎ গত আট বছরে ফুটবলের কোনো উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। নির্বাচিত হলে ইশতেহারে যা যা থাকবে, তা বাস্তবায়ন করব।’
 
কাদেরের প্যানেলের সভাপতি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পুটন। সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সভাপতি পদে আগামী ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনে লড়বেন তিনি। বিশাল গাড়িবহর নিয়ে বাফুফে ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন কামরুল। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরে আমার জেলার ফুটবল উন্নয়নে কাজ করছি। বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হলে তৃণমূল ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করব। আমি প্যানেলসহ ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করছি।’
 
কাদেরের প্যানেলের আরেক আলোচিত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুল। আগের দু’বার সালাউদ্দিনের পক্ষেই ছিলেন টুটুল। এবার কাদেরের প্যানেলে যোগ দিয়ে সালাউদ্দিনের শুধু বিরোধিতাই করছেন না, রীতিমতো নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন।