এক মাসেও তনুর খুনিরা চিহ্নিত হয়নি

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৬, ১০:০৭
 
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার এক মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। কিন্তু হত্যার পর এ পর্যন্ত সামরিক-বেসামরিক অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও খুনিদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি সিআইডি। তবে মামলার তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান সিআইডি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহ্ার আকন্দের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল গতকাল মঙ্গলবার ফের কুমিল্লায় আসে। তারা সেনানিবাস এলাকার যে স্থানে তনুর লাশ পড়ে ছিল সেই স্থানটি পুনরায় পরিদর্শন করে।
 
এরপর তারা তনুর বাসায় গিয়ে তার বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে। সিআইডি’র কর্মকর্তারা পরে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অতিথিশালায় বসে লে. কর্নেল ও মেজর পদমর্যাদার ৪ সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকালের দিকে কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে ফিরে এসে দলটি তনুর প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ডা. শারমিন সুলতানাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করে।
 
প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ রাতে তনুর লাশ সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার পিতা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথম তদন্তের দায়িত্ব পান কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পরে কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপর। এসময় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি’র ওসি একেএম মনজুর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কবর থেকে তনুর লাশ উত্তোলনের আদেশ দেয়। গত ৩০ মার্চ জেলার মুরাদনগর উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে তনুর লাশ উত্তোলন করে পুনঃসুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু তনুর প্রথম ও দ্বিতীয় সুরতহাল রিপোর্টে গড়মিলসহ প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকায় তনুর পরিবার ও হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম নেয়। দ্বিতীয়বার লাশ উত্তোলনের পর ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ-হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।
 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ যাবত্ প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটন ও ঘাতকদের শনাক্ত করতে আরও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া কিছুদিনের মধ্যে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদনও পাওয়া যাবে।
 
এদিকে কুমিল্লাস্থ সিআইডি কার্যালয়ে রাত ৮টার দিকে সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যদিও বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি। এ হত্যার রহস্য উদঘাটনে আমরা ঘটনাস্থলের আশপাশের সামরিক-বেসামরিক লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যেহেতু লাশটি সেনানিবাসের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই আমরা সেনাবাহিনীসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছি, তারা আমাদের সেভাবেই সহযোগিতা করছেন।