পরিবেশবাদীরা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দাবি, এই প্রকল্প সুন্দরবনের উপর মানুষের চাপ কমাবে। এখন যারা জীবিকার প্রয়োজনে সুন্দরবনে যায়, রামপালে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটলে তারা বনবিমুখ হবে।
গত ১৬-১৮ এপ্রিল এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে পর এই পর্যবেক্ষণ জানায়। বুধবার সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে তা তুলে ধরে বলেন, ‘সুন্দরবনে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মধু সংগ্রহ, কাঠ কাটতে এবং শিকার করতে যায়। এজন্য বাঘ ও কুমিরের আক্রমণ মোকাবেলা করতে হয়। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনে মানুষের প্রবেশ কমে যাবে। কারণ এর ফলে তাদের জীবিকার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।’ রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে ৫০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ জীবিকার সংস্থান হবে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্প হিসেবে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। ‘মৈত্রী সুপার থারমাল’ নামের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের ইউনেস্কো ঘোষিত হেরিটেজ অংশ থেকে ৬৯ কিলোমিটার এবং সুন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করে তার বিরোধিতা করছে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
