অর্পিত সম্পত্তি খারিজে ৯ কারণে জনহয়রানি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৬, ০৯:০৮
৯ কারণে বাতিল করা ‘খ’ তফসিল ভুক্ত জমি নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে জনগণ। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় গত ১২ এপ্রিল আরো পরিপত্র জারি করেছে। এতে জনহয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
 
২০১৩ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইনের মাধ্যমে ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি অর্পিত নয় বা কখনো অর্পিত ছিল না বলে গণ্য করে তা বাতিল করা হয়। এই আইনের আলোকে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে ‘খ’ তফসিলের জমির খাজনা গ্রহণ ও ক্ষেত্রবিশেষ নামজারির নির্দেশনা দেয়া হয়। গত প্রায় তিন বছরে এ বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা জারি হলেও তাতে জনহয়রানি দূর করা যাচ্ছে না। নামজারি ও খাজনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় সহকারি কমিশনার (ভূমি), তহশীল অফিস  মোটা অংকের ঘুষ দাবি করছেন। অপারগতায় দিনের পর দিন ঘুরেও জনগণ কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।
 
যদিও এ ধরনের হয়রানি বন্ধের উপায় খুঁজতে একাধিকবার আইনের সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে জনগণ প্রতিকার পাচ্ছে না।
 
বিষয়টি নিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, এএলআরডি, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ একাধিকবার ভূমিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এ সময় তারা ‘খ’ তফসিল ভুক্ত জমির অবমুক্তি নিয়ে জনহয়রানির ৯টি কারণ চিহ্নিত করে তার প্রতিকারের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। ওই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ এপ্রিল ভূমি মন্ত্রণালয় ‘জনহয়রানী মূলক ও দুর্নীতিমূলক’ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করে।
 
যে ৯টি কারণে জনহয়রানি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, প্রয়োজন না থাকলেও মধ্যবর্তী দলিলাদিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র দাবি করা, আবেদন পাওয়ার পর সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে দিনের পর দিন ফেলে রাখা, ভূমি অফিস ঘিরে এ সংক্রান্ত দালাল চক্রের প্রভাব এবং তাদের মাধ্যমে উেকাচ গ্রহণ করা, কাগজপত্র স্বত্ব দখল সঠিক থাকার পরেও আবেদনকারীকে প্রতিকার না দেয়া ইত্যাদি।
 
এ দিকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেল ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনাকে ইতিবাচক বর্ণনা করে তা বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে।