প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি থেকে আজও বঞ্চিত জয়পুরহাট চিনিকলের ৭শ কর্মী

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৬, ০৯:২৭
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া আদেশ ৫ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় জয়পুরহাট চিনিকলের অবসরে যাওয়া ৭ শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী আজও তাদের প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে আর্থিক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
 
জয়পুরহাট চিনিকল ও ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পেনশন প্রথার পরিবর্তে আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) প্রথা চালু করা হয়। সেই সার্কুলারে বলা হয় শতকরা ২ দশমিক ৮০ ভাগ হারে প্রাপ্ত  পেনশনভোগীদের মতো সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি  সুবিধা পাবেন। কিন্তু ওই সার্কুলার অমান্য করে ১৯৯৫ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি শতকরা ২ ভাগ হারে  প্রদান করা হয়। গ্র্যাচুইটির হার পুনঃনির্ধারনের জন্য অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তার দায়েরকৃত মামলায় শতকরা ২ দশমিক ৮০ হারে গ্র্যাচুইটি প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল রায় দেয়। রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার্কুলারও জারি করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের ২০৩৬ তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
 
১৯৯৫ সালের পর থেকে জয়পুরহাট চিনিকলের অবসরে যাওয়া ৭ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। টাকার জন্য ধরনা দিচ্ছেন চিনিকলে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। একেকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা রয়েছে বলে জানান চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জোব্বার ও দেওয়ান বদিউজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক ইউসুফ আলী, হবিবর রহমান, মমতাজ মণ্ডল, তবিবর রহমান, মফিজ উদ্দিন।