তিন দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আত্মহত্যার হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন এক প্রতিপ্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে আত্মহত্যার হার মূলত মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গদের মধ্যেই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে একতৃতীয়াংশই শ্বেতাঙ্গ মধ্যবয়সী।
দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রতিবেদনে আত্মহত্যার হার বাড়ার পেছনে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দাকে এর একটি সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করছেন। প্রতিবেদনে আত্মহত্যাকারীদের শিক্ষাগত পর্যায় কিংবা আয় অনুযায়ী আলাদা করা হয়নি। কিন্তু পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই এমন শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বাড়ছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসি বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট ডি পুটনাম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বড় পরিসরে দারিদ্র্য, আশাহীনতা এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সংযোগ রয়েছে। শুক্রবার সিডিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে যা ১৯৮৬ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
ইতিপূর্বে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে আত্মহত্যার বিষয়টি খুব সাধারণ বলে ধারণা করা হলেও সম্প্রতি এই হার পরিষ্কারভাবে বেড়েছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে আত্মহত্যার সার্বির হার ২৪ শতাংশ বেড়েছে বলে সিডিসি জানিয়েছে। আর ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে এই হার বেড়েছে ৪৩ শতাংশ আর একই বয়সের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।
২০১৪ সালে মধ্যবয়সী ১৪ হাজার শ্বেতাঙ্গ আত্মহত্যা করেছেন। এই সংখ্যা আত্মহত্যাকারী কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক, এশিয়ান, প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের অধিবাসী, আমেরিকান ইন্ডিয়ানস এবং আলাস্কা অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীদের মোট সংখ্যার দ্বিগুণ। বিবিসি।
