২ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৬, ১৮:৫৯
রাজশাহীতে হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল থেকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
 
নিহত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া নাসরিনের পিতা গাইবান্ধা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক আব্দুল করিম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে দুই শিক্ষার্থীর লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের মামা সারোয়ার হোসেন বাবু এবং সুমাইয়া নাসরিনের পিতা আব্দুল করিম লাশ গ্রহণ করেন।
 
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন খান করে বলেন, এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, কে বা কারা তার মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে হোটেলে এনে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি রাজশাহী এসে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেছেন। 
 
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক ডা. এনামুল হক বলেন, শিক্ষার্থী সুমাইয়া নাসরিনকে ধর্ষণের পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথায় ও মুখে জখমের চিহ্ন রয়েছে। অপরদিকে মিজানুর রহমান শ্বাসরোধে মারা গেছেন। কেউ তাকে হত্যা করেছে, নাকি সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে- এজন্য রিপোর্ট প্রদান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 প্রসঙ্গত, নগরীর সাহেববাজার এলাকার হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের চতুর্থ তলার ৩০৩ নং কক্ষ থেকে শুক্রবার দুপুরে দুই শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
সুমাইয়া নাসরিন বগুড়া শহরের উপ-শহরের বাসিন্দা পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল করিমের মেয়ে এবং মিজানুর রহমান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পাঠানপাড়ার উমেদ আলীর ছেলে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।