মধুশূন্য সুন্দরবন, হতাশ মৌয়াল ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৬, ০৮:৫৮
এপ্রিল মাসে সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম। কিন্তু মৌসুম প্রায় শেষ হতে চললেও পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় মধু আহরণ উত্সগুলোতে মৌচাক-মৌমাছি নেই বললেই চলে। ফলে মধু ভান্ডার হিসেবে খ্যাত সুন্দরবন এবার প্রায় মধুশূন্য হয়ে পড়েছে! মাইলকে মাইল বন ঘেটে একফোঁটা মধুও সংগ্রহ করতে পারছে না মৌয়ালেরা। মহাজনের কাছ থেকে নেয়া দাদনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন এই ভেবে দিশেহারা মৌয়ালরা, হতাশ ব্যবসায়ীরাও।
 
সুন্দরবনে মৌমাছি বা মৌচাকের দেখা না মিললেও বন সন্নিহিত গ্রামগুলোতে মৌমাছির বেশ সমাগম ঘটেছে এবার। মৌচাকও হয়েছে অসংখ্য। এমন চিত্র অন্য কোনো বছর দেখা যায়নি। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও বাড়ির গাছগাছালিতে বাসা বেধেছে মৌমাছিরা। তবে লোকালয়ে অসংখ্য মৌচাক থাকলেও তাতে মধুর পরিমাণ খুবই কম এবং মধুর মানও ভালো না। বনবিভাগ ও মৌয়ালেরা মধু না পাওয়ার প্রাথমিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অনাবৃষ্টিকে। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ার কারণে একদিকে যেমন বনের উষ্মতা বৃদ্ধি পাচ্ছে,   তেমনি সময় মতো গাছে ফুলও আসছে না। এর ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় মৌমাছিরা সুন্দরবন ছেড়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ চলাচল করছে। ওইসব জাহাজের হাইড্রোলিক হর্ণের বিকট শব্দে বনের প্রাণিকূল সব সময় আতঙ্কে থাকে। এসব কারণেও ধীরে ধীরে মৌমাছিরা বন ছাড়ছে বলে বনবিভাগ মনে করছে।
 
মধু না পেয়ে ইতোমধ্যে শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মৌয়াল ফিরে এসে তাদের পাস পারমিট সুন্দরবন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এদের অনেকে জানান, তারা প্রতিবছর পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন টিয়ার চর, দুধমুখী, কোকিল মনি, ভেদাখালী, মেহের আলীর চর, আলোর কোল ও খাজরা এলাকার বনে মধু সংগ্রহ করতে যান। ওইসব এলাকা থেকে প্রতি গোনে (একেক ট্রিপে) একেক জন মৌয়াল দুই আড়াই মণ থেকে তিন মণ মধু পেতেন। কিন্তু এবার দুই কেজিও পাননি। মংলা শহরের মধু ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন ও শরণখোলার রায়েন্দা বাজারের মধু ব্যবসায়ী ইব্রাহীম বনি আ. রশিদ জানান, এবছর তিনি এক কেজিও মধু কিনতে পারেননি। বনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা জানান, তিনি এবার পাঁচটি নৌকার পাস করেছেন মধু আহরণের জন্য। তাতে এপর্যন্ত মধু পেয়েছেন মাত্র তিন মণ। গত বছর এই সময়ের মধ্যে ওই পাঁচ নৌকায় পেয়েছিলেন ১৫০ মণ। মধু সঙ্কটের কারণে মূল্য বৃদ্ধি ও ভেজাল মধুর ছড়াছড়ির  আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ওয়াইল্ড লাইফ) খুলনা অঞ্চলের ডিএফও মো. জাহিদুল কবির বলেন, মধু আহরণের সময় চাকের কিছু অংশ রেখে দিতে হয়। পরবর্তীতে ওই অংশে আশ্রয় নেয়া রাণী মৌমাছিকে ঘিরেই পুরুষ মৌমাছিরা সেখানে চাক তৈরি করে। বর্তমানে মধুর সংকট মৌয়ালদের ভুলের কারণেও হতে পারে। এছাড়া এবছর অনাবৃষ্টির কারণে বনে ফুলের সংখ্যা কম। তাই খাদ্য সংকটেও মৌমাছিরা অন্যত্র চলে যেতে পারে।