নাগেশ্বরীতে নির্বাচনী সহিংসতায় ৫ পুলিশসহ শতাধিক আহত

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৬, ২০:৩১
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় সাতজন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য।
 
শনিবার উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের ব্রহ্মতর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামাল গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বাইরে জাতীয় পার্টি প্রার্থী আঞ্জুমান আরা ও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আকমল হোসেনের (চশমা) সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পুলিশ ওই কেন্দ্রগুলোর ব্যালট বাক্স, পেপারসহ নির্বাচন সামগ্রী ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কচাকাটা থানায় নিয়ে যায়। রাত নয়টায় সেখান থেকে কন্ট্রোলরুমে নিয়ে আসার সময় জাতীয় পার্টি প্রার্থী আঞ্জুমান আরার সহস্রাধিক সমর্থক ফলাফল ঘোষণার দাবিতে গাছ ফেলে প্রায় দুই ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করতে থাকে। এ অবস্থায় উত্তেজিত জনতা প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। এদের মধ্যে পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫২ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে বিজিবি ৩২ রাউন্ড গুলি করে। এতে সিরাজুল ইসলাম তুহিন (৩৭), গোলাম গাউস (২২), সুজন (২০), দশম শ্রেনির ছাত্রী বৃষ্টি (১৪), রাসেল (২০), বাচ্চু মিয়া (৩৫), মন্টু মিয়া (৪৭) গুলিবিদ্ধ হয়। রাইফেলের বাটের আঘাতে মাথা থেতলে যায় রহিমা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর। এ সময় শতাধিক লোক আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত সিরাজুল ইসলাম তুহিন (৩৭), গোলাম গাউস (২২), সুজন (২০) ও রহিমা বেগমকে (৫৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
 
অপরদিকে সন্ধ্যা পৌনে আটটায় ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কচাকাটা নায়েকের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে বিজিবিকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এছাড়াও ইন্দ্রগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুর্ব খামার মাদরাসা, মুড়িয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়, পাটেশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে ভোট চলাকালীন ও ভোট গণনা শেষে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ বাধে। এতেও প্রায় ১২ জন আহত হয়।
 
কচাকাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির-উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে।