প্রথম দফায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনো দূর্গাপুর গ্রামে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা কিছুতেই থামছে না। আজ রবিবার সকালে নির্বাচন পরবর্তি বিরোধের জের ধরে দূর্গাপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ি ও সরকারবাড়ির লোকজনের মধ্যে আবারো ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
প্রায় ৬ ঘণ্টা সংঘর্ষে দূর্গাপুর গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধীক লোক আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল সহ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংঘর্ষ চলাকালে দাঙ্গাবাজরে ২০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট, ৫টি বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশুগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাজু খা‘র সমর্থক ও পরাজিত আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মাজু মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে গত এক মাসে ১০ বারের অধীক নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে একজন নিহত ও আহত হয়েছে উভয়পক্ষের ২ শতাধীক লোক।
এ ব্যাপারে থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ থামছে না। শনিবার রাতে দূর্গাপুর গ্রামের সরকার বাড়ির মূসা মিয়ার ছেলে সোহেল বাজারে যাওয়ার সময় মোল্লা বাড়ির লোকজন তার উপর হামলা করে। এরই জের ধরে আজ রবিবার সকালে উভয় পক্ষের সহস্রাধীক লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষটি দুর্গাপুর গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রথমে থানা পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হলে জেলা দাঙ্গা পুলিশ এসে অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়াসেল নিক্ষেপ করে দুপুর ২টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, সংঘর্ষ থামাতে ব্যাপক রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। পরবর্তি সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে।
