জুলহাজ হত্যা : বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৬, ১১:৩৯
 
সমকামীদের অধিকার বিষয়ক পত্রিকা রূপবানের সম্পাদক ও মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএইডের কর্মী জুলহাজ মান্নানের হত্যাকাণ্ডে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। সেই সাথে এই দুঃখজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করার পাশাপাশি তদন্তে সহায়তা প্রদানের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
 
এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের শেকড় চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটিতে থাকা ডেমোক্রেট দলের একজন শীর্ষস্থানীয় সিনেটর বেন কার্ডিন। এক বিবৃতিতে মি. কার্ডিন বলেন, 'ব্যক্তিসত্তার জন্য, কর্মের জন্য, কাউকে ভালবাসার জন্য কিংবা পছন্দের সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করার জন্য যদি কারো বিরুদ্ধে অন্যায় করা হয় তার স্থান আধুনিক সমাজে নেই, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্টভাবে এই বার্তা দিতে হবে।'
 
জুলহাজ হত্যার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, 'যেসব নীতি জুলহাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার প্রতি আমরা দায়বদ্ধ থাকব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে যারা সহিষ্ণুতা এবং মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করবে তাদেরকে আমরা সমর্থন দেব।'
 
বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে ব্লগার ও সংখ্যালঘু ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে কদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল তারা বাংলাদেশের ঝুঁকিতে থাকা ব্লগারদের আশ্রয় দেবে। ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, সেই সুযোগ এখনও অব্যাহত থাকবে এবং জুলহাজ হত্যার প্রেক্ষাপটে মি. কিরবি বলছেন এ ধরণের ঘটনাগুলোও যাতে বিবেচনা করা হয়, হোমল্যান্ড দফতরকে সেই পরামর্শও দেয়া হবে। মি. কিরবি জুলহাজ মান্নানকে মার্কিন দূতাবাসের একজন প্রিয় কর্মী এবং সমকামীদের নিয়ে কাজ করে এমন একজন সাহসী অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 
এ ধরণের হত্যাকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
 
জুলহাজ হত্যার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে। একটি টুইট করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যে পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী হুগো সোয়্যার। বিবিসি।