ব্রেভিকের মানবাধিকার মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৬, ১০:০৪
নরওয়ের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ঘটানো খুনি অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেভিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের মামলায় যে আংশিক জয় পেয়েছেন তার বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সপ্তাহে কারাগারে নিজের বন্দি অবস্থাকে  অমানবিক এবং ‘অত্যাচারের’ সামিল বলে যে দাবি ব্রেভিক করেছিলেন তা বহাল রেখেছে অসলো জেলা আদালত।
 
আদালতের বিচারক হেলেন আন্দেনেজ সেকুলিক বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে অধিকার কথাটি একটি মৌলিক মূল্যবোধের পরিচায়ক। এটি সন্ত্রাসী এবং খুনি সবার জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু নরওয়ের বিচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়েছে।
 
অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেভিক ২০১১ সালের জুলাই মাসে অসলোর সরকারি স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটান এবং উটোয়া দ্বীপে নরওয়েজিয়ান লেবার পার্টির গ্রীষ্মকালীন তরুণ ক্যাম্পে বন্দুক হামলা চালান। সেখানে নিহতদের মধ্যে অনেকেই ছিল কিশোর। ব্রেভিকের গুলিতে প্রাণ হারান ৭৭ জন নিরপরাধ মানুষ। তাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 
৩৭ বছর বয়সী ব্রেভিক নরওয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকারের ইউরোপীয় কনভেনশনের দুটি ধারা লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনেছিলেন। বিবিসি জানায়, ব্রেভিক তার নির্জন কারাবাসসহ তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ, মাত্রাতিরিক্ত হাতকড়া পরানো, বারবার পোশাক খুলে তল্লাশি এমনকি রাত জাগিয়ে রাখার মত আচরণের অভিযোগ করেছেন সরকারের বিরুদ্ধে।
 
রায়ে অসলো ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট বলেছে, ব্রেভিককে প্রায় ৫ বছর নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। দিনে ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে একা সেলে রাখা হত। কোনও বন্দির সঙ্গেই তাকে দেখা করতে দেওয়া হত না। মোটা কাঁচের বেষ্টনীর ভেতর দিয়ে তিনি শুধু জেলের স্টাফদের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। মধ্যরাতে তাকে জাগিয়ে তোলা হত এবং কখনও কখনও নারী কর্মকর্তাদের সামনেও পোশাক খুলে তল্লাশি করা হত।
 
নির্জন সেলে বিচ্ছিন্নতার কারণে ব্রেভিক যে ভোগান্তি হয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি বলে রায় দিয়েছেন বিচারক। ব্রেভিকের গুলি থেকে বেঁচে ফিরে আসা এসকিল পেডারসেন বলেন, আদালতের এই রায়ে তিনি “বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং বিপর্যস্ত” হয়ে পড়েছেন।
 
নরওয়ের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এনআরকে-কে তিনি বলেন, এই ধরনের একজন ব্যক্তির এই জয়ে মনে হয়েছে আমার পেটে কেউ ঘুষি মেরেছে। কিন্তু অপর উটোয়া দ্বীপের হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে ফিরে আসা অপর একজন বিজর্ন ইহলার টুইটারে লিখেছেন, ব্রেইভিকের পক্ষে রায় যাওয়ায় এটাই প্রতীয়মান হয়েছে, নরওয়েতে একটি কার্যকরী বিচার ব্যবস্থা রয়েছে যা কিনা চূড়ান্ত পরিস্থিতিতেও মানবাধিকারকে সম্মান জানাচ্ছে। তবে ব্রেভিকের ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন’ এর অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি এবং ‘লিখিত যোগাযোগ’ এর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করে কোনও অবিচার করা হয়নি বলে আদালত রায় দিয়েছে। বিবিসি।