বিচারপতি মোজাম্মেল ও মানিক আর কোনো রায়ে স্বাক্ষর করতে পারবেন না

আপডেট : ০২ মে ২০১৬, ১৪:৪৭
 
১৬৮টি মামলায় আপিল বিভাগের পক্ষে রায় লেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই বিচারক সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আর রায়ে সাক্ষর করতে পারবেন না। তাদের উপর অর্পিত এসব রায় পুনরায় শুনানির জন্য কার্যতালিকায় দেয়া হয়েছে।
 
আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে ১০৭টি এবং দুই নম্বর বেঞ্চে ৬১টি মামলার শুনানি হবে। আগামী ২ মে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে পুনরায় শুনানির জন্য। পুনঃ শুনানি শেষে নতুন করে এসব মামলার রায় লেখার দায়িত্ব আপিল বিভাগের কর্মরত অন্য বিচারকদের কাছে দেয়া হবে। এর মধ্যে ১৬১টি মামলা  বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর কাছে রায় লেখার জন্য ছিলো। বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের কাছে ছিলো মোট সাতটি।
 
অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এক মামলার রায় পনের মাস ধরে ফেলে রেখেছেন ওই সাবেক প্রধান বিচারপতি। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি অবসরে যান সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। সেই সময় তার হাতে ছিলো ২৫টি মামলার রায়। এর মধ্যে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়টি তিনি ১৫ মাস ধরে ফেলে রেখেছেন।
 
এদিকে বেশিরভাগ মামলার রায় লেখার কাজ শেষ করেছিলেন বিচারপতি মানিক।এই রায়গুলো কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিক কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে অবসরে যাওয়ার দীর্ঘদিন পর এই রায় লেখায় আপিল বিভাগ তা গ্রহন করতে রাজি হয়নি। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবসরের পর রায় লেখা যায় না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় রয়েছে অবসরের পর একজন বিচারপতির লিখিত ও সাক্ষরিত রায় কোন রায় নয়। ভারত এবং পাকিস্তানেও অবসরের পর রায় লেখা সমর্থন করে না।
 

২০১৫ সালের পহেলা অক্টোবর আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী। অবসরে যাওয়ার সময় ১৬১টি মামলার রায় লেখার দায়িত্ব ছিল এই বিচারপতির। এসব মামলা তার অবসরে যাওয়ার আগেই আপিল বিভাগ বিভিন্ন সময়ে শুনানি গ্রহণ সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত আদেশও জানিয়ে দেন। শুধু পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ বাকি ছিল। এর মধ্যে অধিকাংশ রায়ই তিনি লিখে জমা দিয়েছিলেন।