পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন

মমতা কোণঠাসা

আপডেট : ০১ মে ২০১৬, ০৯:৩৪
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম দফার ভোটে গতকাল শনিবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। পঞ্চম দফায় ৫৩টি আসনের ৪৭টিই গতবার মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস লাভ করেছিলো। কিন্তু এবার কংগ্রেস এবং সিপিএম জোট বাঁধায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চাপের মুখে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস।
 
 
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফলাফল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের দিনভর সন্ত্রাস দেখে মনে হতেই পারে ভোটের মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মমতা ব্যানার্জি। যদিও কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউশনে ভোট দিয়ে বের হয়ে সকলের উদ্দেশে বিজয় চিহ্ন দেখান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
 
কলকাতায় শান্তিতে ভোট হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলিতে আক্রান্ত হয়েছেন ভোটার, সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা। কংগ্রেস এবং সিপিএম জোট বাঁধায় বেশ কয়েকটি আসন হারাতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। হেরে যেতে পারেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি, বিদ্যুত্ মন্ত্রী মনিশ গুপ্ত এবং পৌর উন্নয়ন মন্ত্রী। গত লোকসভা ভোটেও নিজের আসন থেকে ১৮৫ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোট কমলেও বিপাকে পড়তে পারে তৃণমূল; কারণ বিজেপির ভোট কমলে তা যোগ হতে পারে কংগ্রেস এবং সিপিএম জোটের ভাণ্ডারে।
 
ফলাফল নিজেদের দিকে নিতে ভোট লুটের অভিযোগও উঠেছে তৃণমূলের দিকে। ভোট লুট করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া কেন্দ্রে সিপিএম কর্মীদের মারের নির্দেশ দেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ। অভিযোগ পেয়ে নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে এফআইআর নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
 
এদিন ৪৩টি কেন্দ্রের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় ভোট লুটের চেষ্টা করে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। যদিও নির্বাচন কমিশন কড়া ব্যবস্থা নেয়ায় বেশি বাড়াবাড়ি হয়নি।
 
এদিকে এই প্রথমবার জাতীয় কংগ্রেসকে ভোট দিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এখন জোটসঙ্গী হওয়ায় জাতীয় কংগ্রেসকেই তিনি ভোট দিলেন।
 
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন রেজ্জাক মোল্লা। সেখানে দলীয় কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। প্রার্থী রেজ্জাক মোল্লার অনুগামীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ তৃণমূলেরই সাবেক বিধায়ক আরাবুল ইসলামের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। নাজেহাল রেজ্জাক দুপুরের দিকে আরাবুল ইসলামকে খোলাখুলিই আক্রমণ করতে শুরু করলেন। বললেন, আমাকে হারাতে তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে। হুগলির আরামবাগে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হল সিপিএম কর্মীর।
 
ভোট দেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিও। ভোট দেন কলকাতার মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সংসদ সদস্য ও অভিনেতা দেব। স্বপরিবারে ভোট দিয়েছেন মুনমুন সেন, রঞ্জিত মল্লিক, কোয়েল মল্লিক, রূপা গাঙ্গুলি, সব্যসাচী চক্রবর্তী, পাওলি দাম, ইন্দ্রানী হালদার, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।