সংসদের স্টিকার লাগানো সেই বিলাসবহুল গাড়িটি জব্দ

আপডেট : ০১ মে ২০১৬, ১০:১৫
 
অবশেষে অভিযানের তিনদিন পর জব্দ করা হয়েছে সংসদের স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল সেই রেনজ রোভার গাড়িটি। শনিবার বিকালে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরে একটি টিম বসুন্ধরা এলাকার একটি হাসপাতালের পার্কিং থেকে জব্দ করে। এ তথ্য জানান, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরে মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান।
 
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট রোডের খিলক্ষেতের চার তারকা হোটেল ‘ঢাকা রিজেন্সি’তে শুল্ক গোয়েন্দার দল অভিযান চালায় । কিন্তু টের পেয়ে গাড়িটি সরিয়ে ফেলা হয়। সারা রাত তাড়া করেও হদিস মেলেনি। শুক্রবার ও শনিবার শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে বসুন্ধরার এপোলো হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় রেন্জ রোভার গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়। শুল্ক গোয়েন্দার দল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় হাসপাতালের পার্কিং এলাকা থেকে গাড়িটি জব্দ করে।
 
তিনি আরো জানান, জব্দের সময় গাড়িটিতে পূর্বের এমপি স্টিকার পাওয়া যায়নি। অনুমান করা হচ্ছে অভিযানের কথা টের পেয়ে এটি খুলে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে, এপোলো হাসপাতালে ফেলে যাওয়া গাড়িতে নম্বর প্লেটও  পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বের নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো শ ০০-০১৫১। পরিবর্তিত নম্বর বসানো হয়েছে ৫০৩। কিন্তু হাসপাতালের পার্কিং রেজিস্টারে এন্ট্রি আছে পূর্বের নম্বরটি। এর থেকে বুঝা যায় এটি ধাওয়া করা এমপি স্টিকার যুক্ত সেই গাড়ি। গত বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলের পার্কিং এ লুকায়িত ছিল। ওই রাতে গাড়িটি না পেয়ে হোটেলের বারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিম। গাড়িটিতে এমপি স্টিকার থাকায় প্রশ্ন উঠেছে সংসদ সদস্যের প্রাধিকার অপব্যবহার করে কেউ গাড়িটির মাধ্যমে কোনো অবৈধ কাজ করে থাকতে পারে। তিনি বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষকে এজন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। গাড়িটি কারনেট সুবিধায় শুল্কমুক্ত হিসেবে আনা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটি ফেরত যায়নি। বিলাসবহুল এই গাড়িটির মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এবিষয়ে আরো অনুসন্ধান চলছে।
 
মডেল মুন ও স্বামীর বাসায় অভিযান
মডেল ডা. জাকিয়া মুন ও তার স্বামী ব্যবসায়ী শফিউল আজম মহসিনকে ধরতে তাদের বাসায় অভিযান চালিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। গতকাল শনিবার  পৃথকভাবে  এলিফ্যান্ট রোড ও গুলশানের বাসায় এ অভিযান চালানো হয়। তবে দু’জনই অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যান। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সহকারী পরিচালক জোবায়দা খানমের নেতৃত্বে একটি টিম মুনের বাসায় অভিযান চালান। গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর  ৬ এপ্রিল মুনের বাসা থেকে কারনেট সুবিধার অপব্যবহার করা প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি জিপ জব্দ করে। গাড়িটি মডেল মুন ব্যবহার করতেন।