বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই সরকারের আমলে কারো কোনো অধিকার নেই। তাই অধিকার আদায় করে নিতে সবাইকে আন্দোলনে নামতে হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, সরকার উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সাত বছর ক্ষমতায় থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। তারা দেশটাকে শেষ করে দিয়ে যাবে।
গত রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের মে দিবসের সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবই। আমাকে কারাগারে নেয়া হলেও তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন খুন হচ্ছে। ব্লগার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেখক, প্রকাশক, বিদেশি নাগরিক, দূতাবাস কর্মী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকেরা হামলা ও হত্যার শিকার হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে কেমন হয় তা আপনারা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছেন। নিজেরা ব্যালট বাক্স ভর্তি করে জয়ী হবার ঘোষণা দেয়। এই কাজে সহযোগিতা করে তাদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। এই কমিশনকে দিয়ে কোনো দিন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। হাসিনাও যে রকম, নির্বাচন কমিশনও সেই রকম। রানা প্লাজার দুর্ঘটনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লোক সরকারি জায়গা দখল করে ভবন বানিয়েছিল। সেই ভবন ধসে কয়েক হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে। অথচ সরকার খুনিদের বিচার করেনি। নিহত আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুরাও আজ নিরাপদ নয়। তাদের মন্দির ভাঙা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লোকজনের অত্যাচারে তারা শেষ হেয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, রিজার্ভ চুরি হয় কিভাবে এর জবাব কর্মচারী, অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, আজ আমার মা নেই, বাবা নেই, বোন নেই, ভাই নেই, ছেলে নেই। আপনারাই আমার ছেলে, বোন, ভাই। খালেদা জিয়া কারাগারে আটক সাংবাদিক শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান, শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সকল নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবি জানান।
খালেদা জিয়া এদিন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য দেন। শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নাসিম, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান প্রমুখ। সমাবেশে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী যোগ দেন।
