৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলায় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিন উপজেলার ১১ জন প্রার্থী তাদের ভোট বার্জন করেছেন।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সকাল থেকে রাঙ্গামাটি জেলার ২০৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকালে দীর্ঘ লাইন দেখা না গেলেও ভোটাররা বিক্ষিপ্তভাবে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার সংখ্যাও বাড়ে। ভোট গ্রহণ ও নির্বিঘ্ন করতে রাঙ্গামাটির প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে সেনাবাহিনী র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে তিন উপজেলার ১১ জন প্রার্থী তাদের ভোট বর্জন করেছে। নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের ভোট বর্জনের ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ শামসুদ্দোহা পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে এবং আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত জেনে আগে ভাগে নির্বাচন থেকে সরে গেছে ওই ১১ জন।’
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাল ভোটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও কাউখালী উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমর্থিত স্বতন্ত্র ৩ জন চেয়ারম্যান প্রাথীসহ অন্য ৮ জন ভাইসচেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন বাঘাইছড়ির বড়ঋষি চাকমা, নানিয়ারচরের সমিরন চাকমা, জন্তিনা চাকমা, জ্ঞান রঞ্জন চাকমা, পঞ্চানন চাকমা, রুপম দেওয়ান ও কাউখালী উপজেলার অর্জূনমনি চাকমা। দুপুরে স্ব স্ব উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তারা এ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
নানিয়ারচর উপজেলার পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান রন বিকাশ চাকমা ও সুজিত তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা এবং প্রমিকা চাকমা, প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। কাউখালীতে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে অংপ্রু মারমা, শান্তিময় চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান নারী পদে এ্যানি চাকমা কৃপা বর্জণ করেছেন।
রাঙ্গামাটির ১০ টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২২ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩১ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ দশ উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ১৮ হাজার ২৪৮। এর মধ্যে পুরুষ ২লাখ ২০হাজার ৩৯৫ এবং মহিলা-১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩৫জন।
উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলা বাদে রাঙ্গামাটির ৮টি উপজেলায় দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে কাপ্তাই ও লংগদু উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জয়লাভ করেছেন।
রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৮টি। এর মধ্যে ২২টি দুর্গম ভোট কেন্দ্রে হেলিকাপ্টার যোগে নির্বাচনী সরঞ্জামসহ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়।
আরও পড়ুনঃ সিংড়ায় সংখ্যালঘু কিশোরীকে অপহরণের ৭ দিন পর উদ্ধার, আটক-২
রাঙ্গামাটি সদরসহ ১০টি উপজেলায় অন্য বড় দলগুলো প্রার্থী না দিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাহাড়ের আঞ্চলিক দলের সর্মথন পেয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
