বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জের শেষ প্রদর্শণী আনিসুজ্জামান সোহেলের একক “ইনটিমেট ফিয়ার্স”

আপডেট : ০৮ মে ২০১৬, ০২:৩৮
রাজধানীর বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে আনিসুজ্জামান সোহেলের একক চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শণী।
 
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রদর্শণীর উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার মি. এইচ. ই. গ্রেগ উইলকক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য।
 
আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৭৩ সালে। ‘ইনটিমিট ফিয়ারস’ তাঁর দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী। এ-প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত শিল্পকর্মে সোহেল বরাবরের মতো শিল্পের গভীরতাসন্ধানী। তিনি তাঁর শিল্পকর্মে তুলে ধরেছেন ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতা, প্রকৃতির জন্য আকুলতা ও প্রতিনিয়ত নিয়মের বেড়াজালে সবকিছু ঢেকে যাওয়া। ভয়ানক এবং কখনো আতঙ্কজনক বিষয় সোহেলের শিল্পকর্মে উঠে এসেছে। কিছু শিল্পকর্মে অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। অঙ্গহানিসহ বিভিন্ন আকৃতির মাথার খুলিও ব্যবহার করেছেন তিনি।
 
কিন্তু শিল্পকর্মে ব্যবহৃত এসব উপাদান গতানুগতিক নাটকীয়ভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেননি সোহেল। তাঁর ড্রইংয়ের রেখাগুলো স্পষ্ট এবং শিল্পকর্মগুলো অনিন্দ্য। শিল্পীর গবেষণালব্ধ এসব কাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে এর অমিল এবং তীব্র বৈপরীত্য। এর ফলে তাঁর শিল্পকর্মে এক ধরনের বিপরীতধর্মিতা তীব্রভাবে ফুটে উঠেছে।
শিল্পীর নিজের স্বীকারোক্তি, যে ভাঙনধরা কাঠামোর ওপর নির্মিত পরিবেশে তিনি বেড়ে উঠেছেন সেখান থেকেই তিনি তাঁর শৈল্পিক প্রচেষ্টার উৎসাহ পেয়েছেন। বাংলাদেশ একটি অন্তঃপ্রবাহপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেখানে রয়েছে অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, যা প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী সংঘর্ষ সৃষ্টি করে চলেছে। এখান থেকেই শিল্পের উপাদান আহরণ করা হয়েছে।
 
এদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা অথবা সম্প্রতি এ উর্বর ভূমিকে বর্বর করে তোলার বৈরী আস্ফালন এ সবই ধারণ করেছেন সোহেল তাঁর কাজে। এসব রাজনৈতিক বিষয় সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে প্রকাশ না পেলেও দেশ ও সমাজের ভাঙন ঠিকই ধরা পড়ে তার শিল্পকর্মে।
প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক অথবা প্রকৃতির জন্য আকুলতা Ñ এর মধ্য দিয়েও ‘ইনটিমিট ফিয়ারস’-এ অনুপ্রবেশ ঘটে দর্শকের। কিছু চিত্রে কমনীয় প্রাকৃতিক উপাদান যোজনা করে মনুষ্য-নির্মিত স্থাপনার বিরুদ্ধাচারণ করেছেন শিল্পী। প্রজাপতির ডানা কেটে বুলেটের আকৃতি দেওয়া ও ধারালো ছুরির ওপর বিশ্রামরত মোহনীয় পাখি তমসাচ্ছন্নতারই ইঙ্গিত। এর মধ্য দিয়ে এ ধারণাই প্রতিষ্ঠা পায় যে, এটি আত্মনির্মিত ফাঁদ। মানুষ নিজেই পদদলিত করছে রমণীয় উদ্যান; পরিণতিতে হারিয়ে গেছে স্বর্গ।
 
বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জের শেষ আয়োজন ‘ইনটিমিট ফিয়ারস’। এই প্রদর্শনীর পর এ শিল্পাঙ্গনে আর এ ধরনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে না। তবে বাংলাদেশের শিল্পকলার পরিচর্যায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় অলাভজনকভাবে নিজস্ব কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ।
 
’ইনটিমিট ফিয়ারস’ আগামী ৪ জুন ২০১৬ পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ প্রদর্শনীর পর বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ প্রাঙ্গণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্পকলা সম্পর্কিত বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নতুন কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে : www.bengalfoundation.org/art.