রবীন্দ্র চেতনায় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির এক হওয়ার আহ্বান

আপডেট : ০৮ মে ২০১৬, ২২:৩২
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেতনা ও মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শোষণ, বঞ্চনা, সংঘাত, জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, 'রবীন্দ্রনাথ আমাদের গৌরবের নাম; তিনি বাঙালীর অস্তিত্বের একটি চিরন্তন প্রতীক। রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়ার মানে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন এবং সকল ধরনের সংস্কার ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে শৃঙ্খল থেকে মুক্তি।'
 
'রবীন্দ্রনাথের এই জন্মবার্ষিকীতে আমার প্রার্থনা: সমাজের সর্বত্র শুভ চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটুক।' উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ সমাজ, স্বাস্থ্য, এবং পরিবেশ সম্পর্কে তার চিন্তা এখনো আমাদের অনুপ্রাণিত করে। যখন পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজ-এ পরিণত হয়েছে তখনও রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও দর্শন যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।'
 
আবদুল হামিদ বলেন, 'বর্তমান বাংলাদেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের খুব গভীর সম্পর্ক ছিলো। জীবনের একটি সময়ে জমিদারি দেখাশোনার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসর এবং কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসবাস-কালে তিনি জনগণের খুব কাছাকাছি এসেছিলেন।'
 
তিনি আরো বলেন, 'সমবায় চালু এবং কৃষি ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই মহান কবি জনগণকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন, যা বর্তমানেও প্রাসঙ্গিক।'
 
সুন্দর প্রকৃতি ও সম্পদের জন্য রবীন্দ্রনাথ এই দেশকে 'সোনার বাংলা' হিসেবে কল্পনা করেছেন এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'শান্তি, ঐক্য ও সম্প্রীতি- হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের গানের মর্মবাণী। বিশ্বের এ অঞ্চলের মানুষ ও মাটি তার কবিতা-গল্প-গানে খুব সহজভাবে ফুটে উঠেছে।'