নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ইসির চিঠি

আপডেট : ১০ মে ২০১৬, ১৯:০২
 
চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশকিছু এলাকায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও নির্যাতনের ঘটনা ঘঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই চিঠিতে ভোটারদের নিরাপত্তার সঙ্গে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘সামনে দু’ধাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে এসেছে কিছু কিছু জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হচ্ছে। এজন্য সংখালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।’
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের উপর ভোটকে কেন্দ্র করে বাড়ি ঘর ভাঙচুর, হামলা হয়েছে। এমনকি সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারীকেও এবার দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ভয়ভীতির কারণে অনেক সংখ্যালঘু পরিবার দেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমাচ্ছেন। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধ ও তাদের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এমনকি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নির্বাচন কমিশন থেকে টেলিফোনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া হচ্ছে। উদ্বিগ্ন কমিশন গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সংক্রান্ত জরুরি চিঠি পাঠায়। ইসির নির্বাচন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব ফরহাদ আহাম্মাদ সাক্ষরিত চিঠিতে পরবর্তী দুই ধাপে নির্বাচনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
 

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বশর্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, যেকোনো সহিংসতা কঠোর হাতে দমন, সহিংসতাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি ও দৃশ্যমান করা, প্রার্থী, ভোটার তথা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত পালন করে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য ভোটাদের নিরাপত্তা বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনী সহিংসতা রোধ, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির মাধ্যমে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হল।’