ভারতে অনেক মুসলমানকে ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু কেন তাদেরকে এভাবে দেখা হচ্ছে তার যথার্থ ব্যাখ্যা এ নিয়ে কাজ করা অনেকেই দিতে পারেননি। তাদের মতে, বলা যেতে পারে অনেকটা সন্তর্পণে হিন্দুদের মাঝে যেভাবে দলিত সম্প্রদায় রয়েছে, তেমনি অনেক মুসলানকেও একইভাবে ‘দলিত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং দলিত সম্প্রদায়ের অবিসংবাদিত নেতা ড. ভিমরাও আমবেদকার এ নিয়ে একসময় বলেছিলেন, অস্পৃশ্যতা দাসত্বের চেয়েও খারাপ। এখানে সাধারণ মানুষ সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদেরকে একটা ‘নিগৃহীত’ শ্রেণি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলিতদের পূর্বে অস্পৃশ্য বলা হত। আর এ শব্দটিই পরিবর্তিত হয়ে এখন দলিত হয়েছে। এই শ্রেণির মানুষদের সমাজের সবচেয়ে হতভাগ্য নাগরিক বলা হয়। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে বর্ণপ্রথার (কাস্ট) কারণে দলিতরা চরম অবহেলা ও নিগৃহীতের শিকার হচ্ছেন।
একই ভাবে সেই সূত্র ধরে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে এখন তা গ্রাস করতে চলেছে মুসলমানদেরও। তারা বিভিন্ন স্থানে অচ্ছুত হিসাবে পরিচিতি পাচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তাদের এই বিষয়টি নিয়ে খুব কমই সেখানে আলাপ-আলোচনা হয়। আর তার একটিই কারণ ইসলাম ধর্মে কখনোই বর্ণ প্রথার স্বীকৃতি দেয় না। সমতা এবং সাম্যতার প্রচারকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
ভারতে ১৪ কোটির মতো মুসলমানের অধিকাংশই ধর্মান্তরিত হয়ে এসেছে। অনেকেই হিন্দু উচ্চ বর্ণের অত্যাচারের কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রধান ইজাজ আলি বলেন, এসব মুসলমানকে দলিত মুসলমান বলা হয়। আর দেশটির শতকরা ৭৫ ভাগই হচ্ছে দলিত মুসলিম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আফতাব আলম বলেন, ভারত এবং মধ্যএশিয়ার অনেক স্থানের বাস্তবতা হচ্ছে সেখানেও মুসলমানরা বর্ণ প্রথা ও অস্পৃশ্যতার বলি হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে এ বিষয়টি চুপিসারেই হয়ে যাচ্ছে। খুব কমই এ নিয়ে কথাবার্তা হয়।
লেখক আলি আনোয়ারের একটি বইয়ে দেখিয়েছেন হিন্দু সমাজে দলিতদের যেভাবে অস্পৃশ্য বলা হয়, সেখানে মুসলমানদেরও বলা হচ্ছে আরজাল (নিম্নশ্রেণি)। সূত্র: বিবিসি
