মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৪ তম রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রয়েছে।
২৪ তম মামলায় হবিগঞ্জ জেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও তার ছোট ভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে যে কোন দিন রায় (সিএভি) ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ১১ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে এ আদেশ দেয়।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ৪০ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থা। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের আরো ২৪টি মামলার তদন্ত চলছে। তবে তদন্তাধীন মামলার আসামিরা যেন তদন্তের কথা জেনে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য কারো নাম প্রকাশে গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বরবার প্রায় সাড়ে ছয়শ'র মতো অভিযোগ জমা হয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতের বিচারে জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ তিন সদস্যের সমন্বয়ে একটি ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়। পরে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এবং বিচার প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত করতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পৃথক ট্রাইব্যুনাল বিচার কার্যক্রম শেষে ২২টি মামলার রায় ঘোষণা করে। বর্তমানে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। এ ট্রাইব্যুনালে ২৩ রায়টি ঘোষণা করা হয়েছে, ২৪ তম রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলের শুনানি শেষে ৭টি মামলায় চূড়ান্ত রায় হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিতে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর চূড়ান্ত রায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
আপিলের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ রায়ের বিষয়ে উভয়পক্ষ ইতোমধ্যে রিভিউ আবেদন দায়ের করেছে। জামায়াতের আরেক নেতা মীর কাশেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ৮ মার্চ রায় দেয় আপিল বিভাগ। এ মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
