পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের তোরখাম সংযোগস্থলে দুই কিলোমিটার বেষ্টনী তৈরির কাজে আফগান বাহিনীর বাধা দেওয়া নিয়ে দুই দশের সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
চার দিন ধরে ওই সীমান্ত দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, বেড়া তৈরি নিয়ে আফগানিস্তানের আপত্তি ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধ থাকবে।
পাকিস্তানের দাবি, সেখানে আফগানিস্তানের দিক থেকে চরমপন্থীদের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং বেষ্টনী দেওয়াটা সীমান্ত পারাপার হওয়া মানুষদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার একমাত্র তাৎক্ষণিক সমাধান।
তোরখাম সংযোগস্থলের পাকিস্তানের অংশ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার শুক্রবার জানান, সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে সেখানে হাজার হাজার লরি তিন দিন ধরে আটকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চালকেরা কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং রাস্তার পাশে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তারা আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর জন্য রসদ বহন করছেন এবং খাদ্য ও শাক-সবজিসহ পচনশীল সামগ্রী রয়েছে।’
IMG0
খাদ্য ও পানি ছাড়া তিন দিন ধরে রাস্তার পাশে থাকা নিয়ে লরি চালকরা অভিযোগ করেন এবং জরুরিভিত্তিতে ওই ইস্যুটি সমাধানের জন্য দেশ দুইটির সরকারের প্রতি আহবান জানান। সীমান্ত পার হয়ে আফগানিস্তানে ঢোকার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো আল জাজিরাকে বলেন, পাকিস্তানে প্রায় তিন দশক শরণার্থী হিসেবে কাটানোর পর তারা এখন তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে এবং নতুন জীবন শুরু করতে চান।
পাক-আফগান সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী সব পশতুন শাসনাধীন সরকারগুলোর আগে থেকেই বিরোধ ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর এই সীমান্ত দেশ দুইটির মধ্যে একটি কলহের বিষয়ে পরিণত হয়। বেশ অনেক দিন ধরেই আফগানিস্তান সীমান্ত নিয়ে পুনরায় আলোচনার দাবি করলেও, পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
