স্পেনের লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ের শেষ সপ্তাহে এসে ট্রফি জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হলো বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে। বিশেষ করে রেলিগেশনে পড়া লেভান্তের কাছে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিস্ময় জাগানিয়া হারের পর। যদিও এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনারই শিরোপা তুলে নেয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেননা আজ শনিবার গ্রানাডার মাঠে জিতলেই লা লিগার ২৪তম শিরোপা তুলে নেবে তারা।
পাঁচ বছর আগে পুনরায় লা লিগায় ফেরা গ্রানাডার সাথে বার্সেলোনার রেকর্ডও ভাল। মাঝের এই সময়ে মোট নয় মোকাবেলায় বার্সা হেরেছে কেবল একটিতে। সেটিও প্রায় দুই বছর আগে। সেবারের হারটির কারণে বার্সেলোনাকে শিরোপা খোয়াতে হয়েছিল।
তাই এ লড়াইয়ের আগে লুই সুয়ারেজ সতীর্থদের আহ্বান জানিয়েছেন শুরু থেকে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে না থাকলে তারা যেন মাথা ঠান্ডা রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মানসিক দিক থেকে খুবই শক্ত থাকতে হবে এবং আমাদের বুঝতে হবে আমাদের হাতে ৯০ মিনিট আছে খেলাটিতে জয়ের জন্য।’
সে তুলনায় রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা পুনরুদ্ধার প্রয়াসটা কঠিন। কেননা জিনেদিন জিদানের দলটিকে প্রথমত ডেপোর্টিভো লা করুনার মাঠে জিততে হবে। পাশাপাশি প্রতীক্ষায় থাকতে হবে বার্সেলোনার খারাপ কোন ফলের জন্য। কাতালানদের প্রতিপক্ষ এতটাই দুর্বল যে ‘জাদুকরী’ কিছু ছাড়া লিওনেল মেসিদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া কিংবা ড্র করা কঠিন। রিয়াল অবশ্য লেভান্তের বিরুদ্ধে গত রবিবার জিততে বাড়তি ঘাম ছুটিয়েছিল। ওই জয়টি না পেলে শিরোপা লড়াই লা লিগার শেষ রাউন্ড অবধি গড়াতো না।
বার্সেলোনা অবশ্য আগের রাউন্ডে গত রবিবার এস্পানিয়লকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। লুইস সুয়ারেজ সে খেলাটিতে জোড়া গোল করেছিলেন। এ পর্যন্ত তার গোল ৩৭টি। বার্সেলোনা কোচ লুই এনরিখে জয়টির পর বলেছিলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই ভাল ছন্দে ছিলাম। বিপক্ষকে চাপে রাখি। আমরা পরিপূর্ণ একটা খেলা উপহার দেই। আমরা যা অর্জন করেছি সে জন্য আমি খুশি। এখন আমাদের স্রেফ গ্রানাডাকে হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’
রিয়াল কোচ জিদানের জন্য কাজটা যে কঠিন সেটা আগের খেলায় জয়ের পরই তার কথায় বোঝা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়েই আশাবাদী। আমাদের একটা খেলাই আছে। যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিতে হবে। আমাদের দেখতে হবে শেষ পর্যন্ত কি ঘটে। একেবারে শেষ মিনিট পর্যন্ত।’
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যা তাতে বার্সেলোনা আট মৌসুমের মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো লা লিগা জয়ের লক্ষ্যেই এগিয়ে আছে। অপরদিকে রিয়ালের অপেক্ষা ২০১২ সালের পর প্রথম কিংবা গত আট মৌসুমের হিসেবে দ্বিতীয় লা লিগা ট্রফির জন্য।
কাতালান ক্লাবটিকে অবশ্য লিগ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হতো না। কিন্তু তারা গতমাসে নিজেদের নয় পয়েন্টের অগ্রগামিতা টানা তিন হারে বিসর্জন দিয়ে স্পানিশ লিগের শিরোপা লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে। অবশ্য এই হারগুলোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠে আবার টানা চার জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় এনরিখের দল। শুধু ঘুরেই দাঁড়ায়নি দলটি, প্রচণ্ড দাপুটে ফুটবল খেলে এই চার খেলায় ২১-০ ব্যবধান গড়ে তারা। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ পড়ায় প্রস্তুতির জন্যও পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে মেসি নেইমাররা।
জিদানের দলের লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ট্রফি জয়ের মতো অবস্থায় পৌঁছাটা ছয় সপ্তাহ আগেও ছিল কল্পনাতীত। মূলত জিদানের দায়িত্ব নেয়াই দলটিকে বদলে দেয়। যদিও ফরাসি এই কিংবদন্তি ফুটবলার কোচ হিসেবে প্রথম মৌসুমে এখনো পুরোপুরি মন ভরাতে পারেননি। কিন্তু বার্সেলোনার ব্যর্থতার মধ্যেও রিয়ালকে টেনে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তোলা এবং লা লিগায় শেষ খেলাটি পর্যন্ত শিরোপা স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার পেছনে জিদানের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। রিয়াল মাদ্রিদ ফুলব্যাক ব্রাজিলীয় মার্সেলোও এ জন্য জিদানের প্রশংসা করেছেন। রাফা বেনিতেজের প্রস্থানের পর জানুয়ারিতে রিয়ালে যোগ দেয়া জিদান সম্পর্কে তিনি বলেন,‘বস আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন। তিনিই আমাদের শক্তি জুগিয়েছেন।’
