গ্যাস সংকটে উত্পাদনে যেতে পারছে না ২শ’ কারখানা :বিজিএমইএ

আপডেট : ১৫ মে ২০১৬, ০১:৩০
গ্যাস সংকটের কারনে সব ধরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরও ২শ’ কারখানা উত্পাদনে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যে সংখ্যা দেয়া হয়েছে তা কেবল বিজিএমইএ’র সদস্যভূক্ত প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে অন্যান্য কারখানা যুক্ত হলে সংখ্যা আরো বাড়বে। তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
 
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সত্বেও গ্যাস লাইন ট্রান্সফার, লোড বৃদ্ধি কিংবা নতুন সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট জ্বালাানি নীতি দাবি করে তিনি বলেন, আমরা জানি গ্যাসের স্বল্পতা আছে। সরকার এলএনজি গ্যাস আমদানি ও সরবরাহের কথা ভাবছেন। এ বিষয়গুলো দ্রুত জনসম্মুখে আসা দরকার। যাতে উদ্যোক্তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তারা বিদ্যুিভত্তিক না গ্যাসভিত্তিক কারখানা গড়ে তুলবেন।
 
এ সময় জানানো হয়, নানামূখী সংকটের কারনে ৩১৯টি কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, উদ্বেগের বিষয় যে, গত তিন বছরে ৬১৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো ৩১৯টি কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। অবশ্য একই সময়ে ২৫০টি নতুন কারখানা নতুন চালু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৮টি গ্রীন কারখানা স্থপিত হয়েছে। আরো ১১৮টি কারখানা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
 
সমপ্রতি তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়লেও এ খাতটি নানামূখী সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রতিযোগী দেশগুলোর মুদ্রামান কমলেও বাংলাদেশের মুদ্রার মান বাড়ছে। ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। রপ্তানি বাড়লেও প্রচ্ছন্নভাবে কারখানার প্রকৃত আয় কমছে। সংস্কারে কারখানাগুলোকে গড়ে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সব পণ্যের দাম বাড়লেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক দাম কমছে। অথচ প্রতি বছর উত্পাদন খরচ বাড়ছে।
 
এ সময় আসছে বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১০ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে করারোপ আগামী ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা ও বিগত বছরের জন্যও তা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ৩৫ শতাংশ কর দিয়ে কোন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে না। এছাড়া শতভাগ রপ্তানিমূখী শিল্পের সহায়ক সেবার উপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা, কারখানাসহ অন্যান্য খাতের জন্যও অগ্নি-নির্বাপক ও আধুনিক বিদুত্ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সুযোগ দেয়ার দাবিও জানানো হয়। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভুলে গেলে চলবে না, পোশাক শিল্প শুধুমাত্র ৪৪ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে - তা নয়। বরং এ শিল্পকে কেন্দ্র করে ব্যাংক, বীমা পর্যটন, হোটেল, পরিবহন, সেবাখাত প্রসার লাভ করেছে। তাই সামষ্টিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ শিল্পের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ বাঞ্চনীয়। 
 
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, মোহাম্মদ নাসির, মাহমুদ হাসান খান বাবু, ফেরদৌস পারভেজ বিভনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
 
তথ্যভাণ্ডারে ১৪শ’ কারখানা
 
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪শ’ কারখানার শ্রমিকদের আঙ্গুলের ছাপসহ তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যে সব কারখানা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্যভান্ডার তৈরি করেনি, বিজিএমইএ তাদের সেবা বন্ধ রেখেছে। তাদেরকে অবশ্যই এ প্রক্রিয়ায় আসতে হবে। এক হাতে টাকা নিচ্ছি, আরেক হাতে সেবা দিচিছ। আশা করছি, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব কারখানা শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আনা হবে।