প্রমাদ গুনছেন মমতা!

আপডেট : ১৫ মে ২০১৬, ১৮:১৭
নির্বাচনের আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বলেছিলেন- বাম-কংগ্রেস জোট তার সরকারের একটা খুঁটিও সরাতে পারবে না, সরকার পরিবর্তন তো দূরের কথা; কিন্তু নির্বাচন শেষ হবার পর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন রিপোর্টের পর রীতিমতো প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
 
যদি জরিপ এবং গোয়েন্দা রিপোর্টের ফল সঠিক হয় তাহলে পরিণাম কি হবে তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। নিজের চেয়ে দুশ্চিন্তা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতা হাতে পাবার পর দলের নেতা-পাতিনেতা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরা পর্যন্ত যেভাবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দাবড়ে বেড়িয়েছে, অত্যাচার করেছে তার প্রতিশোধের ভয় কাজ করছে তার মনে।
 
আর বামেরা আছে খোশ মেজাজে। কারণ জরিপের প্রায় সবগুলো ফল তাদের পক্ষে। তবে সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ১৯ মে। সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে।
 
পরিবর্তনের ভোটের সময় ২০১১ সালে বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান হলে তারা কোনো বিজয় উৎসব করবেন না। তাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বদলার রাজনীতি চান না বলে ঘোষণা করে মমতা নির্দেশ দিয়েছিলেন, পালা বদলের পরে পাড়ায় পাড়ায় রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজাতে হবে। আর এবার ভোট-পর্বের শেষ দিকে মমতাকে যখন সেই প্রশ্নই নতুন করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, ১৯ তারিখের পর রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজবে কি না, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘কী বাজবে সেটা মা-মাটি-মানুষ ঠিক করবে!’
 
এই পরিস্থিতিতেই পুরনো মমতার ভূমিকায় এবার দেখা যাচ্ছে বাম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, বিমান বসুদের। বাম সরকার ক্ষমতায় এলেও পাড়ায় পাড়ায় যাতে হামলা না হয়, তার জন্য অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন।
 
বাম নেতারা বোঝানোর চেষ্টা করছেন, পরিবর্তন ঘটিয়ে রাজ্যে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে তারা আশাবাদী; কিন্তু কেউ যাতে আইন হাতে তুলে না নেন, সেই হুঁশিয়ারিও বারবার দিয়ে চলেছেন তারা। নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল ‘আক্রান্ত আমরা’র পক্ষ থেকে। সেই অবস্থান-মঞ্চে গিয়েই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত বলেন, শুধু সরকার বদলের জন্যই মানুষের জোট গড়া হয়নি। লড়াই হচ্ছে দিন বদলের, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বদলের। বিকল্প সরকার এলে সেই কাজে সুবিধা হবে।
 
তার আগে বামফ্রন্টের বৈঠকেও ঠিক হয়েছে, বিজয় মিছিলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বৈঠকের পরে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘এটা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। এখন বিজয় উৎসব হবে
 
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও কেন উৎসব-মিছিল কিছুই চান না, তার আরো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এ দিন দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তার বক্তব্য, ‘চা-বাগানে খাদ্য নেই, শিশুর গায়েও মারের দাগ, মোষ চুরির অপবাদে ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে অভিযুক্ত বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে কীসের উৎসব? সরকার হলে অনেক বড় দায়িত্ব আসবে আমাদের উপরে। কঠিন কাজ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যেন সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পারেন— নিশ্চিত করতে হবে।’ সেই সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দিলেন, ‘সরকার হলে সেই সরকার শুধু পুলিশ-আমলাদের ভরসায় চলবে না। সেই সরকার হবে প্রকৃতই মানুষের সরকার।’
 
যদিও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেছেন, ‘অত বর্ষণ হবে না! মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা ব্যানার্জিই ফের রাজভবনে গিয়ে শপথ নেবেন।’