ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিনের মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট।
আদালত আবেদনকারী পক্ষের আইজীবীদের উদ্দেশে বলেছে, 'নিম্ন আদালতে থাকা মামলাটি বিচারের এই পর্যায়ে আমরা (বিচারক) হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছি না। এছাড়া কোনো রুলও ইস্যু করব না।'
পরে আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়ার আবেদন জানায়। তখন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়।
আবেদন কারি পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এ এস এম মবিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১১ বছর আগে মারা যায় ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিন। ওই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছিলো। কিন্তু ঘটনার ৮দিন পর পলিনের বাবা মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। তৎকালীন ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাডেট কলেজের মিল্ক ব্রেকের সময় ভিকটিম শার্মিলা শাহরিন পলিনের হত্যাকান্ড ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে উক্ত ঘটনা আত্মত্যা হিসেবে প্রচারের সঙ্গে জড়িত ওই কলেজের অ্যাডজুট্যান্টমেজর নাজমুল হক, এনসিও সার্জেন্ট নওশেরুজ্জামান, সিকিউরিটি গার্ড হেনা বেগম ক্যাডেট কলেজসূমহের ডিএ এজি মেজর মুনির আহাম্মদ চৌধুরী এবং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/২০২/২০৩/৩৪ ধারার অধীনে অপরাধের সংশিষ্টতার অভিযোগের আপততভাবে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
২০১৩ সালের ২২ মে এই এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। চলতি বছরের ৩ মার্চ ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
এই অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করেন নাজমুল হক। আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এসএম মোবিন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির শুনানি করেন।
