মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্র রফতানি চেষ্টার সমালোচনায় পোপ

আপডেট : ১৭ মে ২০১৬, ১৭:৩১
নিজেদের নিজস্ব ধরনের গণতন্ত্র ইরাক ও লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে রফতানির চেষ্টা করায় পশ্চিমা শক্তিগুলোর সমালোচনা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। এই প্রচেষ্টায় ওই দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি পশ্চিমারা কোনো শ্রদ্ধাবোধ দেখায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
 
সোমবার রোমান ক্যাথলিক ধারার ফরাসি সংবাদপত্র লা ক্রোয়িক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোপ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চলতি ইসলামপন্থি সন্ত্রাসবাদের মুখে আমাদের উচিত অতি পশ্চিমা ছাঁচের গণতন্ত্র ইরাক ও লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে রপ্তানি করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা, যেখানে শক্তিশালী ক্ষমতা ছিল, যেখানে সমাজের নিজস্ব গোষ্ঠীগত ধরন ছিল। এসব সংস্কৃতিকে আমলে না নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে না।
 
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি এক লিবীয় বলেছেন, আমরা একজন গাদ্দাফিতেই অভ্যস্ত ছিলাম, আর এখন হয়েছে ৫০ জন। এসব বিষয়কে “সাংস্কৃতিক ঔপনিবেশিকতা” আখ্যা দিয়ে প্রায়ই বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা করেন পোপ ফ্রান্সিস।
 
তিনি বলেন, এই নয়া ঔপনিবেশিক ধরনে পশ্চিমা দেশগুলো অর্থনৈতিক সহায়তার বিপরীতে নিজেদের মূল্যবোধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে। ২০১১ সালে লিবিয়ার নিহত সাবেক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটিতে অরাজকতা বিরাজ করছে।
 
বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ক্ষমতা সংহত করে তেল খনি ও শোধনাগারগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টায় লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে। গোষ্ঠীগত এসব লড়াইয়ের সুযোগে দেশটিতে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। রয়টার্স।