চীনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ঝেং দেজিয়াংয়ের হংকং সফরকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভের পর এই প্রথম বেইজিংয়ের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তা সেখানে সফর করলেন। চীনের হংকং এবং ম্যাকাউ বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে আছেন তিনি। এদিকে তার সফরকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রপন্থি গ্রুপগুলোর বিক্ষোভের পরিকল্পনায় সেখানে ৬ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মূলত চীন-হংকং এর মধ্যে বিদ্যমান অনৈক্য নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেই ঝেং হংকং সফরে আছেন। আর এই অনৈক্যের মূলে রয়েছে হংকংয়ের বিষয়ে চীনের হস্তক্ষেপ। হংকংয়ে এসেই ঝেং এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, এখানে তিনি সকলের সঙ্গে আলাপচারিতা করার জন্য এসেছেন। আর এর মধ্য দিয়ে অনেক কিছুরই ভালো সমাধানের পথ বেরুবে। এসময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছাবার্তা সকলকে জানান। ঝেং বলেন, চীনের কেন্দ্রীয় সরকার এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে তিনি এখানে এসেছেন। এ কারণে তিনি হংকংয়ের শীর্ষ নির্বাহী থেকে শুরু করে সকলের কথা শুনবেন। তিনি বলেন, ‘এক দেশ দুই নীতি’ -এই নীতি বাস্তবায়নে সকলের পরামর্শ শোনা হবে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং লি কেকিয়াংয়ের পর তিনি দেশটির তৃতীয় কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্টান্ডিং কমিটিরও চেয়ারম্যান। সফরকালে তিনি হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন হংকং-কে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয়। আর ওই চুক্তি অনুসারেই হংকং-এর অধিবাসীরা চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে অধিক স্বাধীনতা ভোগ করে। তবে হংকং-এর অধিবাসীদের মধ্যে চীনা পরিচয়ের বাইরে নিজেদের পৃথক পরিচয়ের স্বীকৃতির দাবিও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
