ডিপিএলে শেখ জামালের রোমাঞ্চকর জয়

আপডেট : ১৯ মে ২০১৬, ১৭:৪৪
২ বলে প্রয়োজন তখন ৫ রান। মাহমুদউল্লাহ পরের বলটি করলেন একদমই শর্ট; মাঠের যে কোনো প্রান্তে পাঠানোর মত বল। বেশি বাজে বলে অতি উত্তেজনাতেই হয়ত টাইমিংয়ে গড়বড় করলেন ফরহাদ। মিড উইকেটে বৃত্তের ভেতরই ক্যাচ। জিতলেন মাহমুদউল্লাহ, জিতল শেখ জামাল।
 
বৃহস্পতিবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রিজার্ভ ডেতে গড়ানো শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৪ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। বৃষ্টির কবলে পড়া ম্যাচে আগের দিন ৩৮ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৮ রান তুলেছিল শেখ জামাল। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৩৮ ওভারে লক্ষ্য ছিল ১৯৬, এক বল বাকি থাকতে গাজী অলআউট ১৯১ রানে।
 
আগের দিন শেষে খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল গাজী গ্রুপ। তবে বৃহস্পতিবার সকালে দারুণ এক স্পেলে শেখ জামালকে ম্যাচে ফেরান মুক্তার আলি। ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচ সেরা।
 
১৬.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করছিল গাজী। সকালের বৃষ্টিতে এদিনও খেলা শুরু হয় সোয়া দুই ঘণ্টা দেরিতে। খানিকটা স্যাঁতসেঁতে উইকেট ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিয়েছে বেশ। বল সিম করেছে, নিচু হয়েছে। একটু থেমেও এসেছে ব্যাটে। দারুণ লাইন-লেংখে বল করে সেটির ফায়দা নিয়েছেন মু্ক্তার।
দিনের প্রথম দুই উইকেটে অবদান শেখ জামালের তরুণ উইকেটকিপার জাবিদ হোসেনের। ওয়াহিদুল আলমের বাঁহাতি স্পিনে অলক কাপালিকে স্টাম্পিং করেছেন দারুণ ক্ষিপ্রতায়।
 
৩৬ রানে দিন শুরু করা এনামুল অর্ধশতক স্পর্শ করেন ৬০ বলে। একটু পরই মুক্তারের অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল অযথা পুল করতে গেলেন। ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল অসাধারণ দক্ষতায় গ্লাভসবন্দী করলেন মিডিয়াম পেসেও স্টাম্প ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা জাবিদ।
 
উইকেটে বল থমকে আসায় টাইমিংয়ের গড়বড়ে মুক্তারের শিকার মইনুল হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন। মাঝে ২ ছক্কায় ২২ রান করে গাজীকে ম্যাচে ফেরার ফারুক হোসেন। উইকেটে গিয়েই আরাফাত সানিকে উড়িয়েছন লং অন দিয়ে। শফিউল হোসেনকে আছড়ে ফেলেছেন গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ওপরের দিকে। কিন্তু এই বিগ হিটারও ক্যাচ দিয়েছেন মুক্তারের থেমে আসা বলে।গাজীর ভরসা হয়েছিলেন ফরহাদ। এমনিতে একটু মন্থর খেলার জন্য পরিচিত হলেও এদিন মেটান পরিস্থিতির দাবি। খেলেছেন পুল, ড্রাইভ, স্কুপ। ৪৬ বলে করেন অর্ধশতক।
 
১১ নম্বরে নামা আনকোরা মুস্তাফিজুর রহমান সিঙ্গেল নিয়ে দারুণ সঙ্গ দিয়ছেন ফরহাদকে। শেষ ওভারে রান আউট থেকে বেঁচে যাওয়ার আগে অবশ্য আরও একবার জীবন পেয়েছিলেন ফরহাদ। শফিউলের বলে লং অনে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন মার্শাল আইয়ুব।
 
শেষ ওভারে গাজীর প্রয়োজন ছিল ১০ রান। শুরুতে সোহাগ গাজীর হাতে বল দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। পরে মত বদলে বল হাতে নেন নিজেই, যেটি ছিল দিনে তার প্রথম ওভার। বাজে বলে ফরহাদের আরও বাজে শটে শেষ হাসি মাহমুদউল্লাহরই।