বাংলাদেশে নির্বাচনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থান বহাল রেখেছে উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। এ বিষয়টিতে আমাদের পূর্বের অবস্থান এখনো রয়ে গেছে, এটার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
তিনি বলেন, আমরা এখনো চাই বাংলাদেশের মানুষেরা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাতে অংশ নিতে পারে। বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীর করা এক প্রশ্নের জবাবে জন কিরবি এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখ করে কিরবি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার মতো আমরা বাংলাদেশেও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা ও সংবাদ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেখতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রশ্নকারী সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আমার দুটি প্রশ্ন আছে। প্রথমটি হচ্ছে, আপনাদের একজন সহকর্মী ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাস মান্নানকে কে খুন করা হয়েছে, যেটি আপনিও জানেন। আর এটা এখন বাংলাদেশের নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুইদিন পূর্বেও বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানে একজন বৌদ্ধ সন্নাসীকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? আর এ ইস্যুতে আপনি কি জানেন, এটি প্রথম প্রশ্ন।
কিরবি:এই বিষয়টিতে আমি সুনির্দিষ্টভাবে অবগত নই। আপনি আমাকে যে বিষয়টিতে প্রশ্ন করেছেন তার কোনো আপডেট এ মুহূর্তে আমার হাতে নেই। প্রশ্নটি নিলাম, পর্যাপ্ত তথ্য নিয়ে আপনাকে জানাবো। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক ইমেইলে জানানো হয়। চরমপন্থীর সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একিসঙ্গে সন্ত্রাসের মূল শিকড় কোথায় তাও খুঁজে দেখতে কর্তৃপক্ষকে আহবান জানিয়েছে দেশটি। এতে আরো বলা হয়,যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে যাতে আর কোনো আক্রমনের ঘটনা না ঘটে তা প্রতিরোধে সহযোগিতা করা,হুমকিতে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষা,যেসব হত্যাকান্ড ঘটেছে তার তদন্ত ও বিচার করা।
প্রশ্ন:ঠিক আছে। এবার দ্বিতীয় প্রশ্ন:কিরবি: বলুন। প্রশ্ন: দ্বিতীয় যে প্রশ্নটি তা হলো-আমরা যতদূর জানি,বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত সু-স্পষ্ট। গত ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল। আর সেটি ছিলো একতরফা নির্বাচন। নির্বাচনের পরই বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাগাদা দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে এ বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কি? কারণ, সরকার ইতিমধ্যে ২ বছর পার করেছে। দেশে এখন সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই, বিচাবর্হিভূত হত্যাকান্ড চলছে। যুক্তরাষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনেও মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এ ইস্যুতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র কি অবস্থান নিয়েছে? সমপ্রতি দুইজন সহকারি সেক্রেটারি বাংলাদেশ সফর করেও এসেছেন।
কিরবি: আপনি এখানে বেশ কয়টি বিষয় তোলেছেন। কোন বিষয়টিতে আমাদের অবস্থানের কথা বলছেন?
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চায় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠিত হোক। কারণ ২০১৪ সালে সর্বশেষ যে নির্বাচন হয়েছিল তা ছিলো একতরফা। এবং এ নির্বাচনের পরই যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বচ্ছ,নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের তাগাদা দিয়েছিলো। তাই এ বিষয়টিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কি? কিরবি: ভালো কথা-প্রশ্ন: হ্যাঁ।
কিরবি: আমরা এখনো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই। আমরা এখনো চাই বাংলাদেশের মানুষেরা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাতে অংশ নিতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য জাযগার মতো আমরা বাংলাদেশেও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা ও সংবাদ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেখতে চাই। সত্যিকার অর্থে আমাদের আগের অবস্থান এখনো রয়ে গেছে, এটার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আপনার পরবর্তী প্রশ্ন যেটি করেছেন, সেটির বিষয়ে আমাকে জানতে হবে। এ বিষয়ে আমি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানতে পারিনি। ঠিক আছে? প্রশ্ন: হ্যাঁ। আপনাকে ধন্যবাদ।
