নোবেলজয়ী সাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের দেহভস্ম কলাম্বিয়ার উপকূলীয় শহর কার্তাগেনায় সমাহিত করা হয়েছে। কার্তাগেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রাচীরঘেরা স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দেহাবশেষ সমাধিস্ত করা হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে।
কার্তাগেনা শহরে মার্কেসের পারিবারিক বাড়ি থেকে কাছেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান। মার্কেসের একটি ব্রোঞ্জের আবক্ষমূর্তিও প্রাচীরঘেরা ওই স্থানের মাঝখানে তার সমাধির কাছে উন্মোচন করেন তার দুই ছেলের একজন রদরিগো গার্সিয়া বার্সা।
১৯২৭ সালের ৬ মার্চ মার্কেস কলাম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে ক্যারিবীয় উপকূলের শহর আরাকাটাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪০-এর দশকে তিনি কার্তাগেনায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৮০-এর দশক থেকে তিনি মেক্সিকোয় বসবাস করতে শুরু করেন এবং সেখানেই ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল মারা যান। কিন্তু তার পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কেসকে কার্তাগেনাতেই সমাহিত করা উচিৎ, যেখানে তার পরিবারের অনেক সদস্যও সমাহিত হয়েছেন।
মার্কেসের দুই ছেলের অন্যজন গনসালো গার্সিয়া বার্সা বলেন, 'গার্সিয়া মার্কেস পরিবার এই কার্তাগেনা শহরকে কেন্দ্র করেই। এখানেই আমার দাদা-দাদী সমাহিত হয়েছেন।'
বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাসকারী গনসালো সেখান থেকেই দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, 'তার দেহভস্ম সেখানে সমাহিত হবে এটা আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে।'
কার্তাগেনা শহরের সঙ্গে মার্কেজের যুগপৎ প্রেম ও ঘৃণার সম্পর্ক ছিল। তার একাধিক উপন্যাসে এই শহরটিকে শ্রেণীপীড়িত ও বর্ণবাদী সামাজের সঙ্গে সংঘাতময় একটি ক্ষয়িষ্ণু স্থান হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মার্কেসকে স্প্যানিশ ভাষার সর্বকালের অন্যতম সেরা লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাদুবাস্তবতার কৌশলে রচিত 'ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড' (একশ বছরের নিঃসঙ্গতা) উপন্যাসের জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিত পান।
১৯৬৭ সালের এই উপন্যাসটি বিশ্বব্যাপী ৩ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। মার্কেস ১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। বিডি নিউজ।
