‘আমার নাম মফিজ, ভাড়া হইসে তিরিশ’ একটা সময় দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিলো এই সংলাপ। ২০০৬ সালে ম্যাজিক টুথপাউডারের এক বিজ্ঞাপনের এই সংলাপ ছড়িয়ে পড়ে সবার মুখে মুখে। পর্দার সামনের সেই ‘মফিজের’ পর্দার পেছনের গল্প আরো দারুণ।
জনপ্রিয় এই মডেলের নাম খন্দকার লেনিন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দায়িত্বে রয়েছেন।
মিডিয়াতে তার আসা অবশ্য এই পেশার আগেই। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। তিনি বলেন. ‘ সেসময় প্রখ্যাত অভিনেতা তারিক আনামের অফিসে গিয়েছিলাম। সেই সময়টাতেই কাকতালীয়ভাবে একটা বিজ্ঞাপণের জন্য স্ক্রিন টেস্ট চলছিল। অপেক্ষা করতে দেখে সেখানকার একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমিও স্ক্রিন টেস্ট দেব কিনা, কী যেন ভেবে দিয়েই দিলাম। নির্বাচিতও হলাম। সেখান থেকেই শুরু।’
তবে পর্দার পেছনের মানুষটির গল্প আরো কষ্টের, আরো সংগ্রামের। তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর প্রত্যেক মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলের জীবনেই একটা বিভীষিকাময় মুহূর্ত তৈরি হয়। পরিবার-আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী সবার তখনই একই কথা, চাকরি নেই, চাকরি নাও।
এমন সময়েই রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন লেনিন। সেখানেও পড়াতেন সিনেমা নিয়ে। কিন্তু ঠিক নিজের মতো করে কাজ করতে পারছিলেন না। হুট করেই ছেড়ে দেন চাকরি। এসময়ও মিডিয়াতে কাজ করার প্রস্তাব আসতে থাকে।

কিন্তু সব বাদ দিয়ে দুইবছরের জন্য পুরো পড়াশোনায় ডুব দেন। লক্ষ্য একটাই বিসিএস। এরপরের গল্পটা সাফল্যের। পরীক্ষা দিলেন, ফলাফল আসলো, বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিলেন।
তবে এখনও মিডিয়াতে কাজ চালিয়ে যেতে চান। স্বপ্ন দেখেন সিনেমা তৈরির। এমন একটি শিল্পকর্ম তৈরি করবেন যেখানে মানুষ মনে রাখবে অনেকদিন। তিনি মনে করেন বিনোদন আসলে একটি সেবা। বিশ্বাস করেন, যারা অভিনয় করেন, তাদের মাঝে একটি দায়িত্ববোধ রয়েছে, সমাজকে কিছু দেয়ার, মানুষকে অনুপ্রাণিত করার।

কাজ করেও যাচ্ছেন নিয়মিত। কদিন আগে অভিনয়ে জুটেছে মেরিল-প্রথমআলো পুরস্কারও। সমালোচকদের চোখে সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন তিনি।
দুটো কাজ সমন্বয় করেন কিভাবে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, একজন পুলিশ হিসেবে আমি ২৪ ঘণ্টাই দেশের জন্য নিবেদিত। তবে কর্তব্যের অবসরেই একটু সময় বের করে নেন।
এছাড়া তার সিনিয়র কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে তাকে খুবই উৎসাহ ও সহযোগিতা করে থাকেন বলেও জানান তিনি।
তবে এই দুই পরিচয়ের বাইরেও তার একটি পরিচয় আছে। তিনি একজন মঞ্চের কর্মীও। মঞ্চের সাথে তিনি এখনও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় কাজ করেছেন নাট্যদল আরন্যকে। ইতোমধ্যে তিনি শেক্সপিয়রের ম্যাকবেথ, রাশিয়ান একটি নাটক আন্তন চেখভের থ্রি সিস্টারস, ফরাসি নাট্যকার মলিয়ের তারতুফ নাটকেও কাজ করেছেন। এছাড়াও কাজ করেছেন, বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী লেখক হ্যারল্ড প্রিস্টনের কয়েকটি নাটক, সংস্কৃত নাটক মৃচ্ছকটিকসহ বেশ কটিতেই।

তবে এখন থিয়েটারে কাজ করার সুযোগ হয়না। আর সেই সময়টাকে অনেক মিস করেন বলেও জানান তিনি।
এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ আমি তাদের কাছেই কাজ শিখেছি। এছাড়া স্কয়ার গ্রুপ ও নির্মাতা রেদোয়ান রনির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের এই কাজটুকু খুব উপভোগ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তায় এমন অনেকবার হয়েছে যে একজন মফিজ ভাই বলে ডেকে উঠলো। এটাই তো পাওয়া আসলে। আমি তাদের এই অনুভূতিকে সম্মান জানাই।
আর বিনোদন তো সেবাই। এই সেবাতেই নিজেকে নিয়োগ করতে চান।
