চট্টগ্রামে হত্যার দায়ে দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৪ মে ২০১৬, ১৩:৫১
চট্টগ্রামে হত্যার দায়ে দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল করিম লিটন এবং মফিজুল ইসলাম ফারুক সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে লিটন পলাতক রয়েছেন।
 
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিশেষ জজ সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের আরেক ভাইসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়ার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমানের ছেলে হাফেজ দিদারুল আলম ওই উপজেলার কেরাণীহাটে ভাই ভাই ক্লথ স্টোরের কর্মচারী ছিলেন। ভাই ভাই ক্লথ স্টোরের মালিক ছিলেন রেজাউল করিম লিটন, আজাদুল আলম আজাদ এবং মফিজুল ইসলাম ফারুক।
 
২০০৫ সালের ১ নভেম্বর রমজান মাসে আকস্মিকভাবে দোকানের ভেতর হাফেজ দিদারের মৃত্যু হয়। দোকান মালিকরা তার পিতাকে জানায়, সেহেরি খাওয়ার পর বমি করতে করতে দিদার মারা গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান তাদের কথায় বিশ্বস্ত না হয়ে পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
 
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হাফেজ দিদারের মাথায়, বুকে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। রিপোর্টে বলা হয়, এসব আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
 
পরে ঘটনার তদন্ত করে পুলিশ জানতে পায়, দোকান মালিকদের বড় ভাই জাফরের মেয়ের সঙ্গে হাফেজ দিদারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই প্রেমের ঘটনা ধামাচাপা দিতে দিদারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে তারা। এরপর দিদারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারপর সেহেরি খেয়ে বমি করে দিদার মারা গেছে বলে নাটক সাজায় খুনিরা।
 
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান মামলা করেন। ২০০৯ সালের ২ জুন তদন্ত কর্মকর্তা চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগপত্র গঠন করে। মামলায় ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।