বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাকে 'আধুনিক যুগের ওশান'স ইলেভেন' বলে সম্বোধন করেছেন ম্যানিলাভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গোয়েন্দা অগাস্টাস এসমেরালদা। রিজার্ভ চুরির ঘটনাটিকে 'সাধারণ চুরি' হিসেবে দেখলে ভুল হবে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা এমন এক ঘটনা, যেখানে কেউ একজন টাকা চুরির জন্য হ্যাকার ভাড়া করেছে। সেই লোক ব্যাংক ব্যবস্থাপনা বোঝে, মুদ্রাপাচার আইনের ফাঁক চেনে, আর ক্যাসিনো সম্পর্কে জ্ঞান রাখে।
অগাস্টাস এসমেরালদা দুটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের হয়ে কাজ করছেন। তিনি লাস ভেগাসের ক্যাসিনো ডাকাতির কাহিনী নিয়ে নির্মিত হলিউডের সিনেমা ওশান'স ইলেভেনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা যেন "আধুনিক যুগের ওশান'স ইলেভেন। আমি এটাকে বলব ম্যানিলা টুয়েলভ।"
ফিলিপিন্সের আইন অনুযায়ী, ক্যাসিনোগুলো মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় পড়ে না। অর্থাৎ, খেলোয়াড়দের অর্থের সন্দেহজনক উৎস সম্পর্কে সরকারকে তথ্য দিতে তারা বাধ্য নয়। গেইমিং ব্যবসাকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতেই ২০১৩ সালে ফিলিপাইনের কংগ্রেস ক্যাসিনোকে ওই আইনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
ফিলিপিন্সের পুরনো ধাঁচের ব্যাংক সিক্রেসি আইনও তদন্তকারীদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই আইনের ফলে প্রায় সব ধরনের বিদেশি মুদ্রার অ্যাকাউন্ট ও লেনদেনের তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হ্যাকাররা, যাদের এখনও চিহ্নিত করা যায়নি, গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার হ্যাক করে ভুয়া সুইফট মেসেজ পাঠায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে। ৩৫টি মেসেজের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে তারা।
বেশিরভাগ চেষ্টা আটকে দেয়া গেলেও চারটি মেসেজে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ঠিকই চলে যায় ফিলিপাইনের রিজল কমর্শিয়াল ব্যাংক করপোরেশনের এক শাখায়। সেই ব্যাংক থেকে একটি রেমিটেন্স এজেন্সির হাত ঘুরে ওই অর্থের বেশিরভাগটা চলে যায় ক্যাসিনোতে।
এই লেনদেনে যারা জড়িত ছিলেন- ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্যাসিনোর জাংকেট অপারেটর- তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ফিলিপিন্স সিনেটের ব্লু রিবন কমিটি। বিডি নিউজ।
